গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিল সমস্যা
গর্ভপাত
যদি কোন কারণে গর্ভস্থ ভ্রণ আটাশ সপ্তাহ বা সাত মাসের পূর্বে মাতৃগর্ভের বা জরায়ু থেকে বের হয়ে যায় তবে তাকে গর্ভপাত বা এ্যাবরশন বলে। এ সমস্যা সমাধানে করণীয় দিক- ক. সন্তান সম্ভবা হলেই চিকিৎসকের কাছে পূর্বের সকল ইতিহাস খুলে বলতে হবে, খ. নিয়মিত চেকআপ জরুরী, গ. সন্তান সম্ভবা হওয়ার প্রথম দিকে রিকসা, বাস, ট্রাক, ট্রেন ইত্যাদির ঝাকুনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত, ঘ. টিউবওয়েল পাম্প করা, পানি ভর্তি ভারী বালতি তােলা, বাচ্চা কোলে নেওয়া ঠিক নয়, ঙ. ছোঁয়াচে অসুখ থেকে গর্ভবতী মাকে দূরে রাখতে হবে, চ. দোকান বা হােটেলের খাবার না খাওয়াই ভালাে, ছ.প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
প্রি-এক্লাম্পশিয়া
প্রি-এক্লাম্পশিয়া গর্ভধারণের বিশ সপ্তাহ অর্থাৎ পাঁচ মাস পর থেকে দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে করণীয় দিক- গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক আপের ব্যবস্থা করা। গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা।
এক্লাম্পশিয়া বা গর্ভকালীন খিচুনী
এক্লাম্পশিয়া মূলতঃ প্রি-এক্লাম্পশিয়ার গুরুতর অবস্থা, গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এক্লাম্পশিয়া বা গর্ভকালীন খিচুনি । এ সমস্যা সমাধানে করণীয় দিক- প্রসব পূর্ব বা গর্ভকালীন পরিচর্যা নিয়মিত রক্ত চাপ মাপা, প্রস্রাবে প্রােটিন যায় কিনা পরীক্ষা করা, হাতে পায়ে পানি ইত্যাদি পরীক্ষা করা। যেহেতু এক্লাম্পশিয়া হওয়ার আগে প্রি-এক্লাম্পশিয়া হয়। তাই প্রি-এক্লাম্পশিয়া প্রতিরােধ করা গেলেই এক্লাম্পশিয়া হবে না।
প্রসবজনিত ফিস্টুলা
ফিস্টুলা হচ্ছে এক ধরনের অস্বাভাবিক নালি যার গায়ে কোষ কলা থাকে এবং যা আবরণী কলা দিয়ে আবৃত শরীরের যে কোন দুটি অংশের মধ্যে সংযােগ ঘটায়।
পেরিনিয়াম ছিড়ে যাওয়া
যােনি মুখে ও পায়ু পথের মাঝখানের জায়গাটিকে পেরিনিয়াম বলে। পেরিনিয়ামে কোন আঘাতের ফলে ক্ষত বা ছিড়ে যাওয়াকে পেরিনিয়াম ছিড়ে যাওয়া বলে।