ডিম্বাণুর গঠন চিত্র সহ আলোচনা।

ডিম্বাণুর গঠন চিত্র সহ আলোচনা।

স্ত্রী গ্যামেটের নাম ডিম্বাণু। উওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। ডিম্বাণু হতে প্রাণের বিকাশ শুরু হয়।

ডিম্বাণুর সংজ্ঞা কী?

মুখ্য স্ত্রীজনন অঙ্গ বা ডিম্বাশয় থেকে সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোমবিশিষ্ট স্ত্রীজনন কোষকে ডিম্বাণু বলে।

ডিম্বাণুর গঠন

ডিম্বাণুর আকার

প্রায় সব প্রাণীর ডিম্বাণুই আকারে গোলাকার বা উপবৃত্তাকার। অন্য আকৃতির ডিম্বাণু খুবই বিরল। ডিম্বাণু শুক্রাণু অপেক্ষা সবসময় বড়ো হয়।

ডিম্বাণুর পরিমাপ

একটি পরিণত ডিম্বাণুর আয়তন তার মজুত কুসুমের পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদনকারী প্রাণীর আকারের ওপর ডিম্বাণুর আকারের কোনো সম্পর্ক নেই। সবচেয়ে ছোটো ডিম্বাণু নেংটি ইঁদুরের ডিম্বাণু এর ব্যাস ০.০৭mm। মানুষের ডিম্বাণু ০.১৪mm।

স্তন্যপায়ীর ডিম্বাণুর গঠন:

নিচে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট একটি পরিণত ডিম্বাণুর গঠন বর্ণনা করা হলো :

প্লাজমা পর্দা

ডিম্বাণুর প্লাজমাপর্দার গঠন আদর্শকোষের প্লাজমাপর্দার অনুরূপ। এর বাইর ও ভিতরের দিকে থাকে 50A° পুরুত্ববিশিষ্ট প্রোটিন স্তর। আর এই দুই স্তরের মাঝে থাকে লিপিড স্ত র। লিপিডের স্তরটি 60A° পুরু।

নিউক্লিয়াস

ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয়াস অবস্থান করে। এটি বেশ স্পষ্ট এবং আকারে সাধারণ প্রাণিকোষের তুলনায় ২০০-৩০০ গুণ বড়ো। স্তন্যপায়ীর ডিম্বাণু প্রায় কুসুমবিহীন বলে নিউক্লিয়াসটি মোটামুটি কেন্দ্রে অবস্থান করে।

তবে ডিম প্রসবকারী স্ত ন্যপায়ীদের ডিম কুসুমসমৃদ্ধ হওয়ায় নিউক্লিয়াস একপার্শ্বে অবস্থান করে। ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। নিউক্লয়াসের মধ্যে একটি অপেক্ষাকৃত বড়ো নিউক্লিয়াস থাকে। নিউক্লিওলাস RNA সমৃদ্ধ তবে ক্রোমাটিন বস্তু দিয়ে ঘেরা থাকে।

ডিম্বাণুর গঠন চিত্র সহ আলোচনা

সাইটোপ্লাজম

ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমকে উওপ্লাজমও বলা হয়। প্লাজমা পর্দা সংলগ্ন সাইটোপ্লাজমের হালকা স্তরকে কর্টেক্স বলে। কর্টেক্সে এক বিশেষ ধরনের দানা থাকে। এগুলোকে কর্টিক্যাল দানা বলে।

দানাগুলো গোলাকার, একক পর্দা বেষ্টিত। এর ভিতরে মিউকোপলিস্যাকারাইড জাতীয় সমসত্ত্ব পদার্থ থাকে। নিষেক পর্দা গঠনে এই দানাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইটোপ্লাজমে RNA, পানি, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগিবডি, রাইবোজোম এবং কুসুম বস্তুসহ অন্যান্য অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।

জোনাপেলুসিডা

স্তন্যপায়ীর ডিম্বাণুর প্লাজমাপর্দা ঘিরে অবস্থিত প্রথম আবরণীটির নাম জোনাপেলুসিডা। একে প্রাইমারি ডিম্ব ঝিল্লিও বলে। ডিম্বাণু ও ডিম্বাশয়ের যৌথ ক্ষরণে এই ঝিল্লি গঠিত হয়। মাছে এই ঝিল্লিকে কোরিওন, পাখিতে ভাইটেলাইন ঝিল্লি বলে। একাধিক শুক্রাণুর দ্বারা নিষেক প্রতিহত করা, অন্য ডিম্বাণুর সাথে সংযুক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা জোনা পেলুসিডার কাজ। প্লাজমাপর্দা ও জোনা পেলুসিডার মধ্যবর্তী থাকা স্থানকে পেরিডাইটেলাইন স্থান বলে।

করোনা রেডিয়াটা

জোনাপেলুসিডাকে ঘিরে বিদ্যমান ফলিকল কোষের সমন্বয়ে গঠিত অতিরিক্ত আর একটি পর্দাকে বলে করোনা রেডিয়াটা বা সেকেন্ডারি ডিম্বাণু পর্দা। ফলিকের কোষের ক্ষরণ ও ফেলোপিয়ান নালির ক্ষরণ একত্রিত হয়ে গঠিত হয় করোনা রেডিয়াটা। ডিম্বাণুকে সুরক্ষা দান করা এর প্রধান কাজ।

Leave a Comment