বিবর্তনের জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ।

বিবর্তনের জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ (Palaeontological Evidence of Evolution)

জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। Fossilis শব্দের অর্থ হলাে dug out বা খুড়ে তােলা। পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তােলা হতাে তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতাে।

বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়।

Stickberger (১৯৯৮) এর মতে “Fossilis are geological remains, impressions or trace of organisms that existed in the past” 217sfogliste জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মােল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত(boring), মলাশ্ম বা কপ্রােলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনােফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনসুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়।

বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযােগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণ (geological evidence) ও বলা হয়।

কালের পরিবর্তনে পৃথিবীর বুকে বহু জীব ধ্বংস হয়ে গেছে। শিলার বিভিন্ন স্তরে চাপা পড়ে অনেকেই জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে। শিলার বিভিন্ন স্তর হতে পৃথিবীর বয়স নির্ণয় করা যায়। একটি বিশেষ স্তরে প্রাপ্ত জীবাশ্ম যার অর্থ হলাে পৃথিবীর ঐ সময় কালে এটি জীবিত ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন শিলাস্তর থেকে ঘােড়া, হাতী, উট, মানুষ ইত্যাদির যে জীবাশ্ম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে সাজালে ঐ সকল প্রাণীর ক্রমবিবর্তন সম্বন্ধে পরিস্কার ধারণা করা সম্ভব হয়।

জীবাশ্মের এইরূপ রেকর্ড হতে দেখা যায় যে, ৬ কোটি বছর পূর্বে ইয়ােসিন যুগে উত্তর আমেরিকায় এবং ইউরােপে প্রাপ্ত ১১ ইঞ্চি উচ্চতাবিশিষ্ট শৃগাল আকৃতির ইয়ােহিপ্পাস (Eohippus) নামক প্রাণী হতে আধুনিক ঘােড়া ইকুয়াস (Equus) এর উদ্ভব হয়েছে। ইয়ােহিপ্পাস এর অগ্রপদে চারটি এবং পশ্চাৎ পদে তিনটি করে আঙুল ছিল। ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ইয়ােহিপ্পাস পায়ের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস করে, দেহের আকৃতির বৃদ্ধি এবং দাতের সংখ্যা ও গঠনে পরিবর্তন এনে বর্তমান ইকুয়াস তথা আধুনিক ঘােড়াটির সৃষ্টি করে।

যে সকল ধাপের মাধ্যমে ইয়ােহিপ্পাস ইকুয়াসে বা আধুনিক ঘােড়ায় রূপান্তরিত হয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলােঃ

ইয়ােহিপ্পাস……..আরােহিপ্পাস….. মেসােহিপ্পাস………..প্লিওহিপ্পাস………ইকুয়াস (আধুনিক ঘােড়া)

বিবর্তনের জীবাশ্মগত প্রমাণ।

Leave a Comment