বিবর্তনের শারীরবৃত্তীয় ও শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ।

বিবর্তনের শারীরবৃত্তীয় প্রমাণসমূহ (Physiological evidence)

বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত এবং দানা (blood crystal) পরীক্ষা করে এদের পরস্পর সম্পর্ক নিরূপণ করা যায়। যেমন- মানুষ ও শিম্পাঞ্জীর রক্তে অনুরূপ হিমােগ্লোবিন দানা দেখা যায়।

এদের হিমােগ্লোবিন দানাগুলাে কুকুর ও অশ্বের হিমােগ্লোবিন দানা থেকে ভিন্ন ধরনের। অগ্ন্যাশয় হতে ট্রিপসিন নামক এক প্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়। মানুষ ও বানরের ট্রিপসিন অনুরূপ। এটি বানরের সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের পরিচায়ক।

ভিন্ন  ধরনের প্রাণীর ভিতর এইরূপ যােগসূত্র আভাস দেয় যে, সম্ভবত ইহারা একই পূর্ব পুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

বিবর্তনের শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ (Taxonomic evidence)

 সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের সকল জীবকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন- সকল এককোষী জীবকে প্রােটোজোয়া, দ্বিস্তরী প্রাণীকে নিডারিয়া পর্বে, নটোকর্ডধারী প্রাণীদের কর্ডাটা পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

একটি পর্বের সকল প্রাণীর উৎপত্তিগত সাদৃশ্য থাকায় এদেরকে একই পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু একটি পর্বের সকল প্রাণীর আকৃতি একই ধরনের হয় না। গঠনগত এরূপ পার্থক্যের কারণ এদের বিবর্তন।

কর্ডাটা পর্বে সকল প্রাণীতে নটোকর্ড থাকলেও প্রাণীগুলাে সকলেই একই ধরনের হয় না। নটোকর্ডের উপস্থিতি এদের উৎপত্তির দিক নির্দেশ করে, আবার এদের বিভিন্নতা বিবর্তনের দিক নিদের্শক।

বিবর্তনের জিনতত্ত্বীয় বা সুপ্রজননবিদ্যাঘটিত প্রমাণ (Genetical eveidence)

জীবের দৈহিক গুণের আঁধার ক্রোমােসােমে অবস্থিত জিন। জিন পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রেখে এর গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, যদি কোন উপায়ে জিনের গুণগত পরিবর্তন ঘটানাে সম্ভব হয়, তবে ঐ জিন বহনকারী জীবটির দৈহিক লক্ষণেও পরিবর্তন আসে।

সুপ্রজননবিদগন রঞ্জন রশ্মি প্রয়ােগে অথবা অন্য কোন রাসায়নিক পদার্থ প্রয়ােগে জিন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। স্বল্প সময়ে কৃত্রিম উপায়ে জিনে যে পরিবর্তন আসে তা প্রাকৃতিক নিয়মে আসতে পারে। এতে হয়তাে বেশি সময় লাগবে।

Leave a Comment