লিঙ্গ সংযুক্ত বা সেক্স লিংকেড বৈশিষ্ট্য
ক্রোমােসােমের সেক্স লিঙ্কড জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৈশিষ্ট্যগুলােকে সেক্স লিঙ্কড বা লিঙ্গ সংযুক্ত বৈশিষ্ট্য (Sex Linked Character) বলে।
সেক্স লিঙ্কড জিন (Sex Linked Gene)
মানুষের প্রতি কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমােসােম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসােম যারা দেহের সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি এক জোড়া X ও Y ক্রেমােসােম লিঙ্গ নির্ধারণ করে। তাই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারি যে সকল জিন কেবলমাত্র সেক্স ক্রোমােসােমে উপস্থিত থাকে সে সকল জিনকে সেক্স লিঙ্কড জিন (Sex Linked Gene) বলে।
X লিংকেড বা সেক্স লিংকেড জিন
সেক্স ক্রোমােসােম বা X ক্রোমােসােমে অবস্থিত জিন গুলােকে সেক্স লিঙ্কড জিন (sex linked gene) বলে।
সেক্স লিঙ্কড প্রচ্ছন্ন জিনের বৈশিষ্ট্য
- ১। বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারি জিন শুধু X ক্রোমােসােমে উপস্থিত থাকে, Y ক্রোমােসােমে থাকে না।
- ২। মহিলার চেয়ে পুরুষে এ বৈশিষ্ট্য বেশি প্রকাশিত হয়। কারণ মহিলার দুটি X ক্রেমােসােম দুটি প্রচ্ছন্ন জিন হােমােজাইগাস অবস্থায় থাকলে তবেই এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। অপরদিকে পুরুষে যেহেতু একটি X ক্রোমােসােম থাকে এবং এতে একটি প্রচ্ছন্ন জিন থাকলেই বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়।
- ৩। সেক্স লিঙ্কড প্রচ্ছন্ন জিন মাতা হতে কন্যা বা পুত্রে সঞ্চারিত হতে পারে। তবে পিতা হতে শুধুমাত্র কন্যাতে সঞ্চারিত হয়, কখনােই পুত্রে সঞ্চারিত হয় না। কারণ পুত্ররা পিতা হতে শুধু Y ক্রোমােসােমপ্রাপ্ত হয় এবং পুত্রের X ক্রোমােসােম শুধু মাতা হতে আসে।
সেক্স লিঙ্কড বংশগতি (sex linked inheritance)
সেক্স ক্রোমােসােম বা X ক্রোমােসােমে অবস্থিত জিনগুলাে X ক্রোমােসােমের মাধ্যমেই বংশ পরস্পর সর্বদা পিতা থেকে কন্যা এবং মাতা থেকে পুত্রে সঞ্চারিত হয়। এ বিশেষ বংশগতিধারার পদ্ধতিকে সেক্স লিঙ্কড বংশগতি (sex linked inheritance) বলা হয়।
সেক্স লিংকড বা লিঙ্গ সংযুক্ত বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ
নিচের ছকে পরিচিত কয়েকটি প্রচ্ছন্ন সেক্স লিঙ্কড বৈশিষ্ট্যের দেয়া হলো-
| বৈশিষ্ট্য | লক্ষণ |
| বর্ণান্ধতা | বিভিন্ন বর্ণের পার্থক্য বুঝতে না পারা |
| রাতকানা | স্বল্প আলোতে কোনো জিনিস দেখতে অসুবিধা বোধ করা |
| হিমোফিলিয়া | রক্ত তঞ্চনে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে ক্ষতস্থান থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ |
| মায়োপিয়া | কাছের জিনিস ভালো না দেখা |
| অপটিক এ্যাট্রোফি | অপটিক নার্ভের ক্ষয়িষ্ণুতা |
| এক্টোডার্মাল ডিসপ্লেসিয়া | লোম, দাঁত ও ঘর্ম গ্রন্থির অনুপস্থিতি |
| জুভেনাইল গ্লকোমা | চক্ষু গোলকের কাঠিন্য ও ছানি পড়া |
| ডুসিনি মাস্কুলার ডিসট্রোফি | পেশির জটিলতায় ১০ বছরেই চলন শক্তি লোপ |
| ইকথাইয়োসিস | অমসৃণ আাঁইশময় ত্বক |
| হোয়াইট ফোরলক | মাথার চুল আংশিক সাদা হওয়া |
সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার (Sex Linked Disorder)
সেক্স লিঙ্কড জিন দ্বারা সৃষ্ট অসুবিধা বা বিশৃঙ্খলাকে সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডার বা লিঙ্গ জড়িত অস্বাভাবিকতা বলে। মানুষে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ ধরনের সেক্স লিঙ্কড ডিসঅর্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেক্স লিঙ্ককড প্রচ্ছন্ন জিন মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে এবং হিমােফিলিয়া, বর্ণান্ধতা, রাতকানা ইত্যাদি রােগ সৃষ্টি করে। নিচের ছকে পরিচিত কয়েকটি প্রচ্ছন্ন সেক্স লিঙ্কড বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ ও লক্ষণ দেয়া হলাে-

লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা (Red-green color blindness)
মানুষের কোন নির্দিষ্ট বর্ণ দেখার অক্ষমতাকে বর্ণান্ধতা বলে। লাল ও সবুজ রং দেখার অক্ষমতাকে লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা বলে।মানুষের চোখের রেটিনায় বর্ণ সংবেদী কোণ কোষ উৎপাদনের জন্য একটি X লিঙ্কড জিন দরকার। মানুষের X ক্রোমােসােমে দুইটি জিন আছে যা চক্ষুর রেটিনায় বর্ণ সংবেদী কোষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোণ কোষ তিন ধরনের যাদের প্রত্যেকটি এক একটি বিশেষ রঙের প্রতি সংবেদনশীল।
যেমন- লাল, সবুজ ও নীল। কোণ কোষগুলাে না থাকলে লাল ও সবুজ বর্ণ পৃথকভাবে চেনা যায় না। রং নিয়ন্ত্রণকারী জিনের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল উপস্থিত থাকলে বর্ণ সংবেদী কোষ গঠন ব্যাহত হয়। ফলে লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা রােগের সৃষ্টি হয়। হােমােজাইগাস নারী (XcXc হেটারোজাইগাস পুরুষ (XcY) লাল ও সবুজ বর্ণের সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না। নারীর ক্ষেত্রে এ জিনটি হােমােজাইগাস প্রচ্ছন্ন না হলে অর্থাৎ ২টি( c)জিন উপস্থিত না থাকলে বর্ণান্ধতা প্রকাশিত হয় না। কিন্তু পুরুষে একটি প্রচ্ছন্ন জিনই সে বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সক্ষম।

