অনিয়ন্ত্রিত হরমােন ব্যবহারের ফলাফল
দেহ সচল, কর্মক্ষম রাখতে অতি অল্প ও নির্দিষ্ট পরিমাণ হরমােন দেহে প্রয়ােজন হয়। কারও দেহে পরিমিত হরমােন ক্ষরিত না হলে নানা জটিল অবস্থা দেখা দিয়ে জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট হরমােন ব্যবহার করতে হয়। হরমােনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কষ্টদায়ক জীবনের অবসান ঘটালেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারটি উল্টো ফল বয়ে আনে।
নিচে কয়েকটি প্রধান হরমােনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলাফল উল্লেখ করা হলাে –
১। বৃদ্ধি হরমােন
দেহকে স্থিতিশীল ও বৃদ্ধি সাম্য বজায় রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধি হরমােন ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে প্রচুর ফ্যাট, ডায়াবেটিস, সন্ধি ব্যথা , হৃদপিণ্ড বড় হয়ে যাওয়ায় হার্ট ফেইলিউর এবং হাত পা মাথার হাড় অস্বাভাবিক বড় হয়ে যাওয়া।
২। থাইরক্সিন
থাইরক্সিনের স্বল্পতা পূরণে যে সংশ্লেষিত হরমােন ব্যবহার করা হয় তাতে কেবল থাইরয়েড হরমােন স্বল্পতাই পূরণ হয় না, সে সঙ্গে থাইরয়েড ক্যান্সার এবং গলগণ্ড প্রতিরােধেও সহায়ক হয়।
কিন্তু অতিমাত্রায় ব্যবহার হলে যে সব জটিলতা দেখা দেয় তার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে: হৃদপিন্ডের ছদ্ম গলগণ্ড হতে পারে, তা ছাড়া দ্রুত হৃদস্পন্দন, পেটে ব্যথা,চিন্তাগ্রস্ততা, খিটখিটে মেজাজ, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধা বৃদ্ধি প্রভৃতি।
অ্যালারজিক প্রতিক্রিয়ায় শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া এবং মুখমণ্ডল ও জিহ্বা ফুলে যায়। এছাড়াও রক্তে ক্যালসিয়ামের ও ফসফরাসের মাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে।
৩। এপিনেফ্রিন (অ্যাড্রেনালিন)
ফুসফুসের ভেতরে বাতাস চলাচলের নালি খুলতে, রক্তবাহিকা সংকীর্ণ করতে এবং বিভিন্ন মারাত্মক আলারজিক ক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে সংশ্লেষিত এপিনেফ্রিন ব্যবহৃত হয়।
অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হলে দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপ, সঙ্গে মাথা ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, দুশ্চিন্তা, দ্বিধাদ্বন্ধ, বুক ব্যথা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হঠাৎ দুর্বলতা, কথা বলা, বা হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া প্রভৃতি।
৪। টেস্টোস্টেরন
এটি পুরুষের অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় হরমােন। এর স্বাভাবিক ক্ষরণে পুরুষ যৌনাঙ্গ সুগঠিত রাখে, গৌন যৌন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটিয়ে পৌরুষ প্রদর্শন করে। বড়ি বা ইনজেকশনের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের অভাব পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
কিন্তু এর অতিব্যবহারে প্রথমে দুর্বলতা, তন্দ্রালুভাব, গায়ে ব্যথা, চামড়ায় জ্বালা পােড়া ভাব, মনােযােগ হীনতা, হাত পায়ের আঙ্গুল ঠাণ্ডা হয়ে আসা প্রভৃতি দেখা দেয়।এছাড়াও মন্থর হৃৎস্পন্দন, রক্তময় মলত্যাগ, মূত্রথলিতে ব্যথা, পিঠের দু’পাশে বা মাঝখান ধরে ব্যথা, ডায়রিয়া প্রভৃতি জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
৫। ইস্ট্রোজেন
এস্ট্রোজেন নারী দেহের গুরুত্বপূর্ণ হরমােন। পরিমিত এস্ট্রোজেন নারী দেহকে সুস্থ সবল ও সুদর্শন রাখে।কোনও কারণে দেহে অপর্যাপ্ত হরমােন উৎপন্ন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এস্ট্রোজেন বাহী বড়ি বা ইনজেকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এসব সামগ্রীর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে নারী বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে।
যেমন স্তন দৃঢ় হয়ে যাওয়া,ঢুলুঢুলু ভাব, অতিরিক্ত রক্তস্রাব, মাথা ব্যথা, মানসিক ভাবের পরিবর্তন, বমিভাব, ত্বকে ফুসকুড়ি, মূত্রের রং পরিবর্তন ইত্যাদি।
৬। ইনসুলিন
আজকাল অনেকেই ডায়াবেটিকস আক্রান্ত হয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিয়ে জীবনযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এর ব্যবহার কঠিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নতুন নতুন জটিলতায় ভােগার সম্ভাবনা থাকে।
যেমন অবসাদ,ঢুলুঢুলু ভাব, মাথা ব্যথা, বমিভাব, স্নায়ু দুর্বলতা, ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঘুমে ব্যাঘাত, খিচুনি, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া প্রভৃতি।