উওজেনেসিস কী?
যে প্রক্রিয়ায় প্রজননক্ষম জীবের স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে জনন মাতকোষ হতে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় তাকে উওজেনেসিস বলে।
সংঘটন স্থান
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ডিম্বাশয়।
উৎপন্ন কোষ
হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোম যুক্ত ডিম্বাণু।
উওজেনেসিস প্রক্রিয়া বর্ণনা
উওজেনেসিস প্রক্রিয়াকে ৪টি ধাপে ভাগ করা যায়। যথা
- ১. সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়।
- ২. বৃদ্ধি পর্যায়।
- ৩. পূর্ণতা পর্যায়।
- ৪. রূপান্তর পর্যায়।

১. সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়
উওজেনেসিস প্রক্রিয়ার যে পর্যায়ে প্রাথমিক জননকোষ পুনঃপুন মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়, তাকে সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায় বলে। এই পর্যায়ে উৎপন্ন কোষগুলোকে উওগোনিয়া বলে। এরা ডিপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোসোম বহন করে।
২. বৃদ্ধি পর্যায়
যে পর্যায়ে ডিম্বাশয়ের প্রাচীরে অবস্থিত উওগোনিয়া পুষ্টি লাভ করে আকারে বড়ো হয় তাকে বৃদ্ধি পর্যায় বলে। এ পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ স্নেহ ও প্রোটিন সঞ্চিত হয়ে কুসুম তৈরি হয়। এই পর্যায়ে উওগোনিয়াম মুখ্য উওসাইট নাম ধারণ করে। ওজনে ভারী হওয়ায় কুসুম ডিমের নিম্ন প্রান্তে জমা এ প্রান্তকে তখন ভেজিটাল পোল বলে। সাইটোপ্লাজমে প্রান্তকে বলে অ্যানিমেল পোল। বৃদ্ধি পর্যায়ে নিউক্লিয়াসে rRNA সংশ্লেষ হয় ও সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়। ক্রোমোসোমের আকার পরিবর্তন করে ফেলে।
৩. পূর্ণতা পর্যায়
এই পর্যায়ে প্রাথমিক উওসাইট মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। এই পদ্ধতিতে প্রাথমিক উওসাইট হতে দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে বড়ো কোষকে বলে গৌণ উওসাইট। ছোটো কোষটিকে বলে পোলার বডি। গৌণ উওসাইট আবার বিভাজিত হয়ে একটি পোলার বডি ও একটি উওটিড উৎপন্ন করে। অপরদিকে পোলার বডি বিভাজিত হয়ে দুটি পোলার বডি সৃষ্টি করে। শেষে ১টি ডিম্বাণু ও ৩টি পোলার বডি তৈরি হয়। উওটিড ও পোলার বডি হ্যাপ্লয়েড কোষ।
৪. রূপান্তর পর্যায়
উওজেনেসিসের যে পর্যায়ে উওটিড রূপান্ত রিত হয়ে ডিম্বাণুতে পরিণত হয় তাকে রূপান্তর পর্যায় বলে। এই পর্যায়ে নিষেকের প্রস্তুতির জন্য উওটিডের বিভিন্ন অংশে সামান্য পরিবর্তন ঘটে।