বিবর্তনের ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ (Embryological evidence)
ডিমের পরর্দার ভিতরে অথবা মাতৃগর্ভে যতদিন একটি নিষ্ক্রিয় ডিম বৃদ্ধি পায় ততদিন প্রাণীর ঐ অপরিণত অবস্থাকে ভ্রূণ বলে।
ভ্রূণের এককোষী বা আদি অবস্থাকে জাইগােট বলে। বহুকোষী প্রথম অবস্থাকে মরুলা, একস্তরী ফাঁপা অবস্থাকে ব্লাস্টুলা এবং দ্বিস্তরী অবস্থাকে গ্যাস্ট্রুলা বলে।
বিজ্ঞানী হেকেল (Haekal,1966) মনে করেন যদি একটি প্রাণী অপর কোন একটি প্রাণী হতে উদ্ভব হয়ে থাকে, তবে উদ্ভুত প্রাণীটি এর ভূণের বিপরিণতিতে আদি প্রাণীর পরিণত অবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলাে পুনরাবৃত্তি করবে। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়- ব্যক্তিজনি জাতিজনির বৈশিষ্ট্য পুনরাবৃত্তি করে (ontogeny ecapitulates phylogeny)। একে হেকেল এর পুনরাবৃত্তিবাদ (theory of recapitulation of Haeekal) বলে। উদাহরণস্বরূপ, যদি মাছ জাতীয় প্রাণী হতে মানুষের উদ্ভব হয়ে থাকে তবে মানুষের ভ্রূণ অবস্থায় পরিণত মাছের আকৃতি দেখা দিবে। শুধু মানুষই নয়, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই হইতে উদ্ভব হয়েছে।

ভ্রূণের পর্যায়গুলাে তার সাক্ষ্য বহন করে। সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীতে জাইগােট অর্থাৎ এককোষী প্রাণীর অবস্থা মরুলা ভলভক্স অবস্থা , ব্লাস্টুলা বা পরিফেরা পর্বের প্রাণীর অবস্থা, গ্যাস্টুলা বা নিডারিয়া পর্বের প্রাণীর অবস্থা বিদ্যমান। মেরুদণ্ডী প্রাণী নিম্নস্তরের বিভিন্ন পর্বের প্রাণী হতে পর্যায়ক্রমে যদি বিবর্তন দ্বারা উদ্ভূত না হতাে তবে এদের ভূণ অবস্থায় কখনােই ঐ পর্যায়গুলাের পুনরাবৃত্তি ঘটতাে না। সকল প্রাণীর ভ্রূণের প্রথম অবস্থা প্রায় একই ধরনের।
কিন্তু পরিণত প্রাণীগুলাে কেউই কারাে সাথে আকৃতিগত সাদৃশ্য বহন করে না। এতেও প্রমাণ হয় যে, ঐ সকল প্রাণী মূলত একই আদি প্রাণী হতে সৃষ্ট। বিবর্তনের জন্য এরা পরবর্তীতে ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। ভন-বেয়ার (Von Bare) সর্বপ্রথম ভ্রূণের মধ্যে এই সাদৃশ্য লক্ষ করেন।