বিবর্তনের ভৌগােলিক বিস্তারগত প্রমাণ।

বিবর্তনের ভৌগােলিক বিস্তারগত প্রমাণ (Evidence from geographical distribution)

উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভৌগােলিক বিস্তার বিবর্তন সংঘটনের সাক্ষ্য বহন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের নানা প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয়। বিবর্তনবিদগণ একে জৈব অভিব্যক্তির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

বিবর্তনবিদগণ মনে করেন যে, পৃথিবীর বর্তমান মহাদেশগুলাে প্রথমে একটি একক বা অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ছিল। পরে সুদীর্ঘকালের নৈসর্গিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাদেশসমূহের সৃষ্টি করেছে। সম্ভবতঃ প্রথমে পৃথিবীর সর্বত্র একই পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ অনুরূপ ছিল।

কিন্তু পরবর্তীকালে পরিবর্তনের ফলে বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে বিভিন্ন প্রকার জীব দেখা যায়। ভূতাত্ত্বিক তথ্য নির্দেশ করে যে, এককালে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আমেরিকার সাথে যুক্ত ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এমন কিছু প্রাণী দেখা যায় যা দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে দেখা যায় না।

এর সম্ভাব্য কারণ এই যে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দুইটি মহাদেশে ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের পরিবর্তন হয় এবং অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে জীবের গঠন প্রকৃতিরও রূপান্তর হয়। আবার অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার মারসুপিয়াল বা ক্যাঙ্গারুজাতীয় প্রাণীগুলাে মূলতঃ অনুরূপ কিন্তু ভৌগােলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এরা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

এ থেকে অনুমান করা হয় যে, উভয় মহাদেশের মারসুপিয়ালগুলাে একই পূর্ব পুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

Leave a Comment