একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষের গঠন
একটি উদ্ভিদ কোষে যখন সব উপাদান ও ক্ষুদ্রাঙ্গ উপস্থিত থাকে,তখন তাকে আদর্শ উদ্ভিদ কোষ বলা হয়।একটি কোষে যে সকল উপাদান ও কোষ অঙ্গাণুসমূহ রয়েছে সেগুলােকে মূলতঃ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- (ক) জড় বস্তুসমূহ ও (খ) কোষস্থ সজীব বস্তু (প্রােটোপ্লাজম)।
জড় বস্তুসমূহের মধ্যে রয়েছে কোষ প্রাচীর এবং কোষস্থ নির্জীব পদার্থসমূহ। সজীব পদার্থগুলােকে মূলতঃ কোষঝিল্লী, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস এ তিন ভাগে ভাগ করা যায়। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষের গাঠনিক উপাদানসমূহ উপস্থাপন করা হলাে-

কোষ প্রাচীর
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষ সাধারণত বাইরের দিকে একটি নির্জীব জড় আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। একে কোষ প্রাচীর বলে।
এ কোষ প্রাচীর প্রােটোপ্লাজমেরই নিঃসৃত দ্রব্য দিয়ে গঠিত। কোষের আকার ও আয়তন প্রধানত কোষ প্রাচীরের উপরই নির্ভর করে। কোষের কার্য, অবস্থান ও বয়স ভেদে কোষ প্রাচীর সূক্ষ্ম অথবা স্কুল, মসৃণ অথবা বিভিন্ন ধরনের কারুকার্যময় হতে পারে। কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য।
প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm)
কোষের ভিতরে অর্ধস্বচ্ছ জেলির মতো একটি বস্তু থাকে যা হচ্ছে প্রোটোপ্লাজম। কোষঝিল্লি দিয়ে ঘেরা যা কিছু যা সব প্রোটোপ্লাজমের অংশ। এমনকি কোষঝিল্লিও প্রোটোপ্লাজমের অংশ। চলো দেখে নেই, কোষঝিল্লির মধ্যে কী কী অংঙ্গানু অবস্থিত!
কোষঝিল্লি
প্রোটোপ্লাজমের বাইরে দুই স্তর বিশিষ্ট যে স্তিতিস্থাপক পর্দা থাকে, তাকে কোষঝিল্লি বলে। এটি মূলত লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা তৈরি। কোষঝিল্লি একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা হওয়ায় অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি ও খণিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাশাপাশি কোষগুলোকে আলাদা করে রাখে।

সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গানু
প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে নিলে যে জেলির মতো বস্তুটি থাকে তা হলো সাইটোপ্লাজম। সাইটোপ্লাজমের মধ্যে অনেক ধরনের অঙ্গানু থাকে। এই অঙ্গানুগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
কোষগহ্বর
সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলো হচ্ছে কোষগহ্বর। প্রাণিকোষ ও উদ্ভিদকোষ উভয় স্থানেই উপস্থিত থাকলেও উদ্ভিদকোষের কোষগহ্বর আকারে বড় হয়ে থাকে। এর প্রধান কাজ হচ্ছে কোষরস ধারণ করা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অজৈব লবণ, আমিষ, শর্করা, চর্বিজাতীয় পদার্থ, জৈব এসিড, পানি ইত্যাদি এই কোষরসে থাকে।
কোষকঙ্কাল
কোষঝিল্লির পরেই কোষকঙ্কাল এর অবস্থান। কোষকঙ্কাল ভিতর থেকে কোষটাকে ধরে রাখে। অ্যাকটিন, মায়োসিন, টিউবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে কোষকঙ্কালের বিভিন্ন ধরনের তন্তু নির্মিত হয়।
রাইবোজোম
এটি প্রাণী ও উদ্ভিদ, উভয় কোষে পাওয়া যায়। রাইবোজোমের প্রধান কাজ হচ্ছে প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করা।
নিউক্লিয়াস
এটি উদ্ভিদকোষের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গানু। এর আকৃতি গোলাকার, ডিম্বাকার বাঁ নলাকার হতে পারে। নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত থাকে।