- বিবর্তনের সংজ্ঞা ও ধারণা। বিবর্তনের প্রকারভেদ।
- বিবর্তনের ধারণা (Concept of Evolution)
- বিবর্তনের প্রকারভেদ (Types of evolution)
- মাইক্রো বিবর্তন (Microevolution)
- ম্যাক্রো বিবর্তন (Macroevolution)
- মেগা বিবর্তন (Megaevolution)
- প্রোগ্রেসিভ বা অগ্রগামী বিবর্তন (Progressive essive evolution)
- রেট্রোগ্রেসিভ বা অবনয়নশীল বিবর্তন (Retrogressive evolution)
- অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)
- অপসারী বির্বতন (Divergent evolution)
- সহবিবর্তন (Coevolution)
- বিবর্তনের প্রকারভেদ (Types of evolution)
বিবর্তনের সংজ্ঞা ও ধারণা। বিবর্তনের প্রকারভেদ।
Evolution শব্দটি বাস্তবিক পক্ষে ল্যাটিন শব্দ, e = from; volvere = to roll থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিকশিত হওয়া (unrolling) বা ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হওয়া। হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer, 1952) সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেন।
বিবর্তন (Evolution) এর সংজ্ঞা
কোনো জীবের সরল অবস্থা থেকে জটিলতার দিকে পর্যায়ক্রমিক অতি ধীর ও ধারাবাহিক পরিবর্তনকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বলে। বিবর্তনের ফলে অধিকতর জটিল জীবের সৃষ্টি বা আত্মপ্রকাশ ঘটে।
জৈব বিবর্তন (Organic evolution) এর সংজ্ঞা
পূর্ব থেকে বিদ্যমান একটি সরল জীব পরিবেশের সাথে অনুকূলতা রক্ষাকরে ধীরগতিতে সার্বক্ষণিকভাবে দৈহিক পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে নতুন জীবে রূপান্তরিত হওয়াকে জৈব বিবর্তন (organic evolution) বলে।
বিবর্তনের ধারণা (Concept of Evolution)
বিবর্তন সম্বন্ধীয় যেকোনো আলোচনায় চার্লস ডারউইন (Charles Darwin) এর নাম সবার আগে আসে। বিবর্তন সম্পর্কে ডারউইন যে মতবাদ প্রদান করেছেন তা চিন্তাবিদদের এমনভাবে আকৃষ্ট করে যে, ডারউইনের মতবাদ ও বিবর্তন এ দুটো প্রায় একীভূত হয়ে যায়। বিবর্তন সম্বন্ধে মানুষের কৌতূহল অনেক প্রাচীন।
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ দশকে গ্রিক দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডার (Aneximander) এর ধারণা ছিল মাছ থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষ সৃষ্টি হয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম দশকে জেনোফেনিস (Xenophanes) জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন। তাঁর ধারণা ছিল যে, স্থলে যে জীবাশ্ম পাওয়া গেছে তা একদিন সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত ছিল।
গ্রিক দার্শনিক এমপেডোক্লিস (Empedocles, 495-435 B.C) এর ধারণা ছিল, মাটি বা অজৈব পদার্থ থেকে প্রথম উদ্ভিদ ও পরে প্রাণীর উদ্ভব ঘটে। এমপেডোক্লিসকে বিবর্তনের জনক (father of evolution) বলে অভিহিত করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ দশকে সর্বকালের বরেণ্য অ্যারিস্টটল (Aristotle) এর ধারণা ছিল যে, অজৈব বস্তুর রূপান্তরের মাধ্যমে পৃথিবীতে জৈব বস্তুর উদ্ভব ঘটেছে। তাঁর মতে, প্রকৃতি নির্ভুল নীতিতে প্রতিটি জীবের পরিবর্তন সাধন করে থাকে।

কালক্রমে বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়া পরম্পরায় জটিল জৈবিক পদার্থ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো সরলতর সজীব পদার্থ প্রোটোপ্লাজম তথা জীবকোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জটিল অজৈব এবং জৈব পদার্থের সংযুক্তির ফলে একদিন যে প্রোটোপ্লাজম আত্মপ্রকাশ করেছিল সে আদি প্রোটোপ্লাজমই বিভিন্ন পরিবেশে পরিবর্তন হতে হতে বর্তমান উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতে রূপ নিয়েছে।
প্রথমদিকে পৃথিবীর উত্তাপ ছিল অত্যন্ত বেশি। ঠাণ্ডা পরিবেশের প্রভাবে পৃথিবী ক্রমশ যথেষ্ট ঠাণ্ডা হওয়ার ফলে বিভিন্ন পরমাণু যুক্ত হয়ে স্থায়ী যৌগিক পদার্থ গঠনের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি হতে থাকে। সব পরমাণু কারও না কারও সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগিক পদার্থ গঠন করে ফেলে। এভাবে পৃথিবীর রাসায়নিক বিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বিবর্তনের প্রকারভেদ (Types of evolution)
বিবর্তন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে যেমন-
মাইক্রো বিবর্তন (Microevolution)
পরিব্যক্তি (mutation), প্রকরণ (variation) ইত্যাদির ফলে জিনে সংঘটিত ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলো এই প্রকার বিবর্তন সৃষ্টি করে। এর ফলে বিভিন্ন জাত (race), ভ্যারাইটি বা উপপ্রজাতির (variety or sub species) সৃষ্টি হয়।
ম্যাক্রো বিবর্তন (Macroevolution)
এই প্রকার বিবর্তনের ফলে উপপ্রজাতি থেকে প্রজাতির উৎপত্তি হয়।
মেগা বিবর্তন (Megaevolution)
পরিব্যক্তির ফলে অনেকে সময় ধরে, বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত পরিবর্তন, যার ফলে মেজর ট্যাক্সাগুলো (গোত্র, বর্গ, শ্রেণি ইত্যাদির) সৃষ্টি হয়।
প্রোগ্রেসিভ বা অগ্রগামী বিবর্তন (Progressive essive evolution)
এই প্রকার বিবর্তনে সরল গঠন থেকে জটিল ও উন্নত গঠন সৃষ্টি হয়। যেমন- মাছ থেকে উভচর, উভচর থেকে সরীসৃপ, সরীসৃপ থেকে পাখি ইত্যাদির সৃষ্টি।
রেট্রোগ্রেসিভ বা অবনয়নশীল বিবর্তন (Retrogressive evolution)
এই প্রকার বিবর্তনে বিভিন্ন জটিল গঠন থেকে অপেক্ষাকৃত সরল গঠন সৃষ্টি হয়। যেমন- লুপ্তপ্রায় অঙ্গের সৃষ্টি।
অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)
এই প্রকার বিবর্তনে একই পরিবেশে অভিযোজনের জন্য চৎগতি ও গঠাকড়াবিদের ভিন্ন দুটি জীবদেহে বাহ্যিক গঠন ও কারণ বির্তনে একই পরিবেশে অভিযোজনের জন্য মৌমাছি ও হুল।
অপসারী বির্বতন (Divergent evolution)
এই প্রকার বিবর্তনে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের যেমন- পাখির ডানা ও মানুষের হাত। দুটি জীবদেহে বাহ্যিক গঠনার নিবর্তনে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের
সহবিবর্তন (Coevolution)
বাস্তুতান্ত্রিক সম্বন্ধযুক্ত একাধিক প্রজাতির একটির বিবর্তন এবং অপর প্রজাতি বা প্রজাতিগুলোর বিবর্তন ঘটলে তাকে সহবিবর্তন বলা হয়। যেমন পোষকের (মিম) বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্যাথোজেনের (pathogen) বিবর্তন।