একটি পরিনত শুক্রাণু গঠন।

একটি পরিনত শুক্রাণু গঠন।

স্তন্যপায়ী প্রাণীর পুং গ্যামেটের নাম শুক্রাণু। স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু সৃষ্টি হয়।

শুক্রাণুর সংজ্ঞা

মুখ্য পুংজনন অঙ্গ বা শুক্রাশয় থেকে সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোসোমবিশিষ্ট পুংজনন কোষকে শুক্রাণু বলে।

শুক্রাণুর আকার

বিভিন্ন প্রজাতির শুক্রাণুর মধ্যে আকার ও আকৃতিতে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। আজ পর্যন্ত দুটি প্রজাতিতে একই আকৃতির শুক্রাণু দেখা যায়নি। শুক্রাণুর আকার একটি প্রজাতির জন্য বৈশিষ্ট্যমূলক। ষাঁড়ে এটি তরবারির মতো, মানুষে ব্যাঙাচির মতো, পাখিতে কর্কঙ্কুর মতো প্যাঁচানো।

শুক্রাণুর পরিমাপ

মানুষের শুক্রাণুর ব্যাস ২.৫ µm এবং দৈর্ঘ্য ৫০ µm।

শুক্রাণুর গঠন

বিভিন্ন প্রাণীর শুক্রাণুতে আকার আকৃতি ও গঠনে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেলেও এদের মৌলিক গঠন কাঠামো একই রকম। একটি শুক্রাণুতে ৪টি অংশ দেখা যায়। যথা:

  • i. মস্তক
  • ii. গ্রীবা
  • iii. মধ্যখণ্ড
  • iv. লেজ।
একটি পরিনত শুক্রাণু গঠন
একটি পরিনত শুক্রাণু গঠন

i. মস্তক

মস্তক হচ্ছে শুক্রাণুর সামনের অংশ যা দেখতে স্ফীতকায় কোনাকৃতি বা লেন্সের মতো। শুক্রাণুর সমস্ত মস্তক একটি পাতলা সাইটোপ্লাজমীয় স্তরে আবৃত থাকে। মাথার সাইটোপ্লাজমের ভেতরে আছে একটি ডিম্বাকৃতির নিউক্লিয়াস।

এর সামনের অর্ধেক অংশের উপরে নিউক্লিয়াসে থাকে “অ্যাক্রোসোম”। আর পেছনের অর্ধেক আবৃত করে রাখে নিউক্লিয়াসকে। অ্যাক্রোসোম শুক্রাণুকে। ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। অ্যাক্রোসোমে স্পার্মলাইসিন নামে এনজাইম থাকে। এই এনজাইম ডিম্বাণুর ঝিল্লিকে গলিয়ে শুক্রাণুর প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজ করে।

ii. গ্রীবা :

গ্রীবা হচ্ছে শুক্রাণুর মাথার ঠিক পেছনে মাথা ও মধ্য খণ্ডের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু, স্বচ্ছ সংযোগস্থল। এখানে পরস্পরের সাথে সমকোণে দুটি সেন্ট্রিওল থাকে। সেন্ট্রিওলের একটিকে কাছের সেন্টিওল বা প্রক্সিমাল সেন্ট্রিওল, অন্যটিকে ডিস্টাল বা দূরের সেন্ট্রিওল বলে।

প্রক্সিমাল সেন্ট্রিওল নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থান করে এবং নিউক্লিয়াসসহ ডিম্বাণুর ভেতর প্রবেশ করে জাইগোটের প্রথম বিভক্তিকে ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে ডিস্টাল সেন্ট্রিওল থেকে একটি সরু সুতার মতো গঠন অক্ষীয় সূত্র হিসেবে লেজের শেষ প্রান্তে অবস্থান করে।

iii. মধ্যখণ্ড:

সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অক্ষীয় সূত্র নিয়ে গঠিত শুক্রাণুর মধ্যখণ্ড। এর মধ্যে মাইটোকন্ড্রিয়ার অংশই বেশি। মাইটোকন্ড্রিয়া ফ্লাজেলাম সঞ্চালনের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগান দেয়। অক্ষীয় সূত্রটি তার চার পাশের সাইটোপ্লামীয় আবরণ মিলে মধ্যভাগের কেন্দ্রীয় মজ্জা গঠন করে। এর পশ্চাৎ প্রান্তে একটি গাঢ় রিংয়ের মতো গঠন দেখা যায়। একে রিংসেন্ট্রিওল বলে। সমগ্র মজ্জা মাইটোকন্ড্রীয় আবরণে বেষ্টিত।

(iv) লেজ:

শুক্রাণুর মধ্যভাগের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া সমাপ্তির অংশ থেকে শুরু করে পেছনের সমস্ত অংশই লেজ বা ফ্লাজেলাম। এটি শুক্রাণুর দীর্ঘতম অংশ। এতে অক্ষীয় সূত্রের এক অংশ একটি স্থুল আবরণে আবৃত থাকে, বাকি অংশ থাকে অনাবৃত। এদের যথাক্রমে মূলখণ্ড ও শেষখণ্ড বলা হয়। লেজ শুক্রাণুকে গতিশীল করে ডিম্বাণুর কাছে নিয়ে যেতে এবং নিষেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুক্রাণুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

  • ১। এদের মাথা সুঁচালো হওয়ায় এরা সহজে কোনো পর্দা ভেদ করে।
  • ২। লেজ থাকার দরুন এরা চলাচলে সক্ষম।

Leave a Comment