এক নজরে: মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুটন (AI সংক্ষিপ্ত সারাংশ)
মুরগিতে অন্তর্নিষেক ঘটে এবং ক্লিভেজ মেরোব্লাস্টিক বা ডিসকয়ডাল সেগমেন্টেশন, যা শুধু জার্মিনাল অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। গ্যাস্ট্রুলেশনে ব্লাস্টোডার্ম এপিব্লাস্ট ও হাইপোব্লাস্টে বিভক্ত হয়; এপিব্লাস্ট থেকে এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম এবং হাইপোব্লাস্ট থেকে এন্ডোডার্ম গঠিত হয়। প্রিমিটিভ স্ট্রিক বরাবর কোষের নিম্নমুখী সঞ্চালনে মেসোডার্ম স্তর তৈরি হয়। ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ বা ভ্রূণ পর্দা চারটি—ইয়ক থলি, অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন (সেরোসা) ও অ্যালান্টয়েস।
- ক্লিভেজ: মেরোব্লাস্টিক বা ডিসকয়ডাল; ইয়ক ক্লিভেজে অংশ নেয় না
- এপিব্লাস্ট → এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম; হাইপোব্লাস্ট → এন্ডোডার্ম
- প্রিমিটিভ স্ট্রিক, হেনসেনের নোড, নটোকর্ড ও নিউরাল নালী গঠন
- চারটি ভ্রূণ পর্দা: ইয়ক থলি, অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন ও অ্যালান্টয়েস
Table of Contents
সিরিজ: ভ্রূণতত্ত্ব : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | পাঠ্যক্রম: অনার্স ৩য় বর্ষ, প্রাণিবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রশ্ন : তিনটি ভ্রূণীয় স্তর গঠন পর্যন্ত মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুটন বর্ণনা কর। [জা.বি.(অনার্স)-২০০০] অথবা, পরিস্ফুটনে চারটি ভ্রূণ পর্দার পরিণতি লিখ। [জা.বি.(অনার্স)-২০০২]
তুমি আরো পড়তে পারো- গ্যাস্ট্রুলেশন কী? বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক পরিবর্তন ও প্রকারভেদ ….. Neanthes-এর ভ্রূণীয় বিকাশ: ট্রোকোফোর লার্ভা পর্যন্ত …… Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশ: গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যন্ত
ত্রিস্তরী প্রাণী ও তিনটি ভ্রূণীয় স্তর
উত্তর : যে সকল প্রাণীতে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর বিদ্যমান তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। স্তর তিনটি হলো : এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্ম। উদাহরণ : কেঁচো, আরশোলা, মেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি।
মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুরণ: অন্তর্নিষেক
মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুরণ : মুরগিতে অন্তর্নিষেক ঘটে থাকে। শুক্রাণু ডিম্বনালীতে প্রবেশ করে ডিম্বনালীর ঊর্ধ্বাংশে অবস্থিত ডিম্বককে নিষিক্ত করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট ডিম্বনালী দিয়ে নিচের দিকে ক্রমশ চলে আসার সময় প্রথমে অ্যালবুমেন এবং পরে খোলক দিয়ে আবৃত হয়।
ক্লিভেজ ও ব্লাস্টুলেশন: মেরোব্লাস্টিক ক্লিভেজ
ক্লিভেজ ও ব্লাস্টুলেশন : ডিম্বপাতের ১৬ ঘণ্টা হতে ২০ ঘণ্টার মধ্যে ডিম্বক ডিম্বনালীর পশ্চাদ্ভাগে এসে পৌঁছায়। ডিম নিষিক্ত হবার পর পরই জাইগোট নিউক্লিয়াসে ক্লিভেজ শুরু হয়। কাজেই ডিম যখন অবসারণীতে এসে পৌঁছে তখন ক্লিভেজের অনেকটা ধাপ এগিয়ে থাকে। কিন্তু ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের নিম্ন তাপের জন্য ভ্রূণের পরিস্ফুরণ বন্ধ হয়ে যায়। ডিমকে যদি তা না দেওয়া যায় অথবা কৃত্রিমভাবে ৯৯°–১০১°F (৩৭°C–৩৮°C) তাপে না রাখা হয়, তাহলে ডিমের পরিস্ফুরণ হবে না।
ডিম ডিম্বনালীর ঊর্ধ্বাংশে থাকা অবস্থাতেই ব্লাস্টোডিস্ক বিভক্ত হতে থাকে। ইয়ক ক্লিভেজে অংশ নেয় না। ক্লিভেজ শুধু জার্মিনাল অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। এ কারণে মুরগির ডিমের ক্লিভেজকে মেরোব্লাস্টিক ক্লিভেজ বা ডিসকয়ডাল সেগমেন্টেশন বলে। নিষেকের তিন ঘণ্টা পর প্রথম ক্লিভেজ ঘটে। এতে ব্লাস্টোডিস্ক খাড়াভাবে বিভক্ত হয়। দ্বিতীয় ক্লিভেজ প্রথম ক্লিভেজের সমকোণে ঘটে। তৃতীয় ক্লিভেজ প্রথম ক্লিভেজের সমান্তরালে ঘটে। ফলে আটটি অসম্পূর্ণ ব্লাস্টোমিয়ার গঠিত হয়। এরপর অনিয়মিত ক্লিভেজ ঘটে।
ফলে ডিস্কের মতো মরুলা গঠিত হয়। মরুলা ইয়কের উপরে মুকুটের মতো অবস্থান করে একে ব্লাস্টোডার্ম বলে।
ব্লাস্টোসিল বা সাবজার্মিনাল গহ্বর ও ব্লাস্টুলা গঠন
ব্লাস্টোডিস্কের শেষ প্রান্তের কোষগুলো ইয়কের সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকে। ক্লিভেজ অগ্রসর হতে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্লাস্টোমিয়ারগুলো ইয়ক হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে যে গহ্বর সৃষ্টি হয় তাকে ব্লাস্টোসিল বা সাবজার্মিনাল গহ্বর বলে। ব্লাস্টোসিল গঠিত হবার পর ভ্রূণকে ব্লাস্টুলা বলা হয়। যে পদ্ধতিতে ব্লাস্টুলা গঠিত হয় তাকে ব্লাস্টুলেশন বলে।
গ্যাস্ট্রুলেশন: এপিব্লাস্ট ও হাইপোব্লাস্ট
গ্যাস্ট্রুলেশন : মুরগির ভ্রূণে যে সকল কোষস্তর হতে পরবর্তীকালে বিভিন্ন কলা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি হয় তাদের জার্মিনাল স্তর বলে। গ্যাস্ট্রুলেশন দশাতেই এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্ম- এ তিন প্রকার জার্মিনাল স্তর সৃষ্টি হয়।
গ্যাস্ট্রুলেশন শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে ব্লাস্টোডার্ম দুটি স্তরে বিভক্ত হয়। উপরের স্তরটিকে এপিব্লাস্ট এবং নিচের স্তরটিকে হাইপোব্লাস্ট বলে।
এই দুই স্তরের মধ্যবর্তী গহ্বরকে ব্লাস্টোসিল এবং হাইপোব্লাস্টের নিচের ফাঁকা স্থানকে প্রাইমর্ডিয়াল আর্কেন্টেরন বলে। এপিব্লাস্টের সম্মুখের কোষসমূহ হতে এক্টোডার্ম ও সুষুম্নাকাণ্ড অঞ্চল এবং এর পশ্চাতের অর্ধাংশ হতে নটোকর্ড ও মেসোডার্ম গঠিত হয়। সুতরাং এপিব্লাস্ট হতেই এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম – এ দুই প্রকার জার্মিনাল স্তর গঠিত হয়। অপরপক্ষে, হাইপোব্লাস্ট হতে শুধুমাত্র এন্ডোডার্ম স্তর গঠিত হয়।
| ভ্রূণীয় স্তর | উৎপত্তিস্থল |
|---|---|
| এক্টোডার্ম | এপিব্লাস্ট |
| মেসোডার্ম | এপিব্লাস্ট (প্রিমিটিভ স্ট্রিক বরাবর নিম্নমুখী কোষ) |
| এন্ডোডার্ম | হাইপোব্লাস্ট |
প্রিমিটিভ স্ট্রিক, প্রিমিটিভ খাঁজ ও হেনসেনের নোড গঠন
গ্যাস্ট্রুলেশনের সময় হাইপোব্লাস্টের পশ্চাৎ অঞ্চলের কোষসমূহ ভ্রূণের মধ্যরেখা বরাবর সম্মুখ ভাগে অগ্রসর হয়। হাইপোব্লাস্টের কোষ বিচলনের পরই হাইপোব্লাস্টের উপরের এপিব্লাস্টের কোষগুলো নিম্নমুখী হয়ে হাইপোব্লাস্টের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করে এবং ক্রমে পার্শ্বে ও সম্মুখ দিকে প্রসারিত হয়। এপিব্লাস্ট ও হাইপোব্লাস্ট কোষসমূহের বিচলনের সঙ্গে সঙ্গে এপিব্লাস্টের পশ্চাৎ অঞ্চলের ভারী মেসোডার্ম কোষগুলো পশ্চাৎ প্রান্তে চলে যায় এবং পার্শ্ব অঞ্চল হতে এ কোষগুলো ভ্রূণের মধ্যঅক্ষ অভিমুখে কেন্দ্রীভূত হয়। এ কোষগুলো ক্রমশ পেলুসিড অঞ্চলে পশ্চাৎ প্রান্তীয় মধ্যরেখা বরাবর একটি মূল অঞ্চল গঠন করে।
এ মূল এলাকাই প্রিমিটিভ স্ট্রিকের উৎপত্তির সূচনা করে। প্রিমিটিভ স্ট্রিক বরাবর কোষগুলো নিচের দিকে অগ্রসর হয় এবং এরা আবর্তিত হয়ে এপিব্লাস্ট ও হাইপোব্লাস্টের মধ্যবর্তী স্থানের সম্মুখ ও পার্শ্ব অঞ্চলে প্রসারিত হয়। ফলে একটি পৃথক মেসোডার্ম কোষস্তরের উৎপত্তি হয়। কোষসমূহের আবর্তনের ফলে প্রিমিটিভ স্ট্রিকের দৈর্ঘ্য বরাবর একটি খাঁজের সৃষ্টি হয়। এ খাঁজটিকে প্রিমিটিভ খাঁজ বলে।
এর অগ্রপ্রান্তে একটি গর্ত থাকে একে প্রিমিটিভ পিট বলে। প্রিমিটিভ খাঁজের দুই পার্শ্বে পার্শ্বীয় মেসোডার্ম কোষ দ্বারা গঠিত উঁচু আঁইলের মত অংশ সৃষ্টি হয়। একে প্রিমিটিভ রিজ বলে। এর পশ্চাৎ প্রান্তের কোষগুলো একটি পাতের মতো প্রিমিটিভ প্লেট গঠন করে। প্রিমিটিভ পিটের সম্মুখে কতকগুলো কোষ একত্রিত হয়ে একটি উঁচু স্থান গঠন করে একে হেনসেনের নোড বা হেড প্রসেস বলে। ১৮-১৯ ঘণ্টা তা দেওয়ার পর প্রিমিটিভ স্ট্রিক সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়।


এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্মের উৎপত্তি
এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্মের উৎপত্তি : পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্লাস্টোডার্ম হতে বিভেদিত হাইপোব্লাস্ট থেকে এন্ডোডার্ম এবং এপিব্লাস্ট থেকে এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম সৃষ্টি হয়। প্রিমিটিভ স্ট্রিক বরাবর যে সকল কোষ এপিব্লাস্ট থেকে নিম্নমুখী হয়ে এপিব্লাস্ট ও হাইপোব্লাস্টের মধ্যবর্তী স্থানে প্রসারিত হয় এবং মেসোডার্ম গঠন করে।
নটোকর্ড গঠন
নটোকর্ড গঠন : এন্ডোডার্ম ও এক্টোডার্ম দ্বারা গঠিত ছাদ এবং ইয়ক দ্বারা গঠিত মেঝে পরিবৃত হয়ে অগভীর আর্কেন্টেরন সমগ্র পেলুসিড অঞ্চল দখল করে। ডিলামিনেশন পদ্ধতিতে এন্ডোডার্ম গঠনের পর পরই হেনসেনের নোড থেকে কোষ ভিতরের দিকে প্রবেশ করে এক্টোডার্মের নিচে মধ্যরেখা বরাবর নটোকর্ড গঠন করে।
নিউরাল নালী গঠন
নিউরাল নালী গঠন : প্রিমিটিভ স্ট্রিক গঠিত হওয়ার পর এর সামনে এবং চতুর্পার্শ্বে গাঢ় অঞ্চল দেখা যায় একে ভ্রূণাঞ্চল বলে। এ অঞ্চল হতেই ভ্রূণ গঠিত হয়। ব্লাস্টোডার্মের অন্যান্য অঞ্চলকে অতিরিক্ত ভ্রূণাঞ্চল বলে। এরা ভ্রূণ গঠনে অংশগ্রহণ করে না।
১৮ ঘণ্টা তা দেবার পর ভ্রূণাঞ্চল ফুটে ওঠে। হেনসেন নোড হতে নটোকর্ড সামনের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর বৃদ্ধির সঙ্গে প্রিমিটিভ স্ট্রিক হ্রাস পেতে থাকে। হেনসেন নোডের ধারে নিউরাল পাত প্রতিপার্শ্বে দুটি লম্বাটে অঞ্চলে বিভক্ত হয়। ২২ ঘণ্টা তা দেবার পর এরা পরস্পরের নিকটে এসে একটি লম্বা খাঁজে পরিণত হয়।
এ খাঁজকে নিউরাল বা মেডুলারি খাঁজ (Neural groove) বলে। নিউরাল খাঁজের প্রতিপার্শ্ব আঁইলের মতো উত্তোলিত হয়ে নিউরাল ভাঁজ গঠিত হয়। ২৪ ঘণ্টা তা দেবার পর নিউরাল ভাঁজ পরস্পরের নিকটে আসতে থাকে এবং প্রথম সোমাইটের সামনে এরা পরস্পরে মিলিত হয়ে নিউরাল নালী গঠন করে।
ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ (ভ্রূণ পর্দা) ও ইয়ক থলি গঠন
ভ্রূণবহির্ভূত আবরণের উৎপত্তি : ব্লাস্টোডার্মের ওপাকা অঞ্চল থেকে উৎপন্ন কতকগুলো কলা প্রত্যক্ষভাবে ভ্রূণের পরিস্ফুরণে অংশগ্রহণ করে না। এদের ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ বলে। ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ বা ভ্রূণ পর্দা চারটি— ইয়ক থলি (কুসুম থলি), অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন (সেরোসা) ও অ্যালান্টয়েস।
ভ্রূণের পরিস্ফুরণের সময় ব্লাস্টোডার্মের কিনারা হতে পর্দা উৎপন্ন হয়ে থলির মতো কুসুমকে ঘিরে বৃদ্ধি পায়। একে ইয়ক থলি বা কুসুম থলি বলে। পর্দাটি দুই স্তরযুক্ত। এর ভিতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম ও বাইরের স্তরটি স্প্ল্যাঙ্কনিক মেসোডার্ম দিয়ে গঠিত। ভ্রূণের অঙ্গীয় দিকে মধ্যান্ত্র অঞ্চলে ইয়ক স্টক নামক একটি বৃন্ত সৃষ্টি হয়।
এটি ভ্রূণের মধ্যান্ত্র ও কুসুম থলির সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। ইয়ক স্টক সোমাটিক অ্যাম্বিলিকাস নামক এক্টোডার্ম ও সোমাটিক মেসোডার্ম দিয়ে গঠিত একটি নলাকার অংশ দিয়ে পরিবৃত থাকে। পরিস্ফুরণ সম্পূর্ণ হলে কুসুম থলির সাথে ভ্রূণের অন্ত্রের প্রত্যক্ষ সংযোগ বিলুপ্ত হয়। কুসুম ভ্রূণের খাদ্য। কুসুম থলি হতে নিঃসৃত উৎসেচক কুসুমকে সরল খাদ্যে পরিণত করে।
অ্যামনিয়ন ও কোরিয়ন (সেরোসা) গঠন
৩০ ঘণ্টা তা দেবার পর ভ্রূণের মস্তকের ঠিক সামনে ব্লাস্টোডার্মিক ভাঁজ উত্থিত হয়। একে অ্যামনিওটিক মস্তক ভাঁজ বলে। অ্যামনিয়ন প্রথমে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ভাঁজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমে এটি শুধু এক্টোডার্ম দিয়ে গঠিত থাকে। পরে বহিঃস্থ এক্টোডার্মের ভিতরের দিকে এবং অন্তঃস্থ এক্টোডার্মের বাইরের দিকে মেসোডার্ম ছড়িয়ে পড়ে।
যে ভাঁজটি এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম দিয়ে গঠিত, তা হুডের মতো প্রথমে মস্তককে আচ্ছাদিত করে পিছনের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সমগ্র ভ্রূণকে আবৃত করে ফেলে। পরিশেষে লেজ প্রান্ত হতে উদ্গত অনুরূপ অ্যামনিওটিক ভাঁজের সাথে মিলিত হয়। তা দেবার চতুর্থ দিনে মস্তক ভাঁজ ও লেজ ভাঁজ পরস্পর মিলিত হয়ে থলির মতো ভ্রূণকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে ফেলে।
অ্যামনিওটিক ভাঁজের বাইরের দিকের দুটি স্তরকে কোরিয়ন বা সেরোসা এবং ভিতরের দিকে দুটি স্তরকে প্রকৃত অ্যামনিয়ন বলে। প্রকৃত অ্যামনিয়ন প্রচুর পানি নিঃসৃত করে। ফলে ভ্রূণ সেই রসে নিমগ্ন থাকে। ভ্রূণকে বাইরের আঘাত ও শুষ্কতা হতে রক্ষা করা অ্যামনিয়নের কাজ।
অ্যালান্টয়েস গঠন
তা দেবার তৃতীয় দিনের শেষের দিকে পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালীর অঙ্গীয়দেশ হতে অ্যালান্টয়েস উৎপন্ন হয়। এটি প্রথমে কোরকের মতো আত্মপ্রকাশ করে। পরে পাতলা থলির মতো বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটি বৃদ্ধি পেয়ে একটি বড় ছাতার মতো আকার ধারণ করে অ্যামনিয়ন ও কোরিয়নের মাঝে সমগ্র অতিরিক্ত সিলোমকে পূর্ণ করে ফেলে। এটি সর্বদা রক্তের কৈশিক জালিকা দ্বারা রক্তপ্লুত থাকে। এটি ভ্রূণের ফুসফুসের কাজ করে। এতে বর্জ্য পদার্থ জমা থাকে।
| ভ্রূণ পর্দা | গঠন / উৎপত্তি | কাজ |
|---|---|---|
| ইয়ক থলি (কুসুম থলি) | দুই স্তরযুক্ত; ভিতরের স্তর এন্ডোডার্ম, বাইরের স্তর স্প্ল্যাঙ্কনিক মেসোডার্ম | কুসুম থলি হতে নিঃসৃত উৎসেচক কুসুমকে সরল খাদ্যে পরিণত করে; কুসুম ভ্রূণের খাদ্য |
| অ্যামনিয়ন | এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম দ্বারা গঠিত ভাঁজের ভিতরের দুই স্তর (প্রকৃত অ্যামনিয়ন) | প্রচুর পানি নিঃসৃত করে ভ্রূণকে নিমগ্ন রাখে; ভ্রূণকে বাইরের আঘাত ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে |
| কোরিয়ন (সেরোসা) | অ্যামনিওটিক ভাঁজের বাইরের দিকের দুটি স্তর | ভ্রূণ পর্দা হিসেবে অ্যামনিয়নের বাইরে অবস্থান করে |
| অ্যালান্টয়েস | পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালীর অঙ্গীয়দেশ হতে উৎপন্ন; রক্তের কৈশিক জালিকা দ্বারা রক্তপ্লুত | ভ্রূণের ফুসফুসের কাজ করে; বর্জ্য পদার্থ জমা থাকে |
তা দেওয়ার সময়ের সাথে ভ্রূণের পরিবর্তন: সময়রেখা
| সময় | প্রধান ঘটনা |
|---|---|
| নিষেকের ৩ ঘণ্টা পর | প্রথম ক্লিভেজ ঘটে |
| ১৮-১৯ ঘণ্টা তা দেওয়ার পর | প্রিমিটিভ স্ট্রিক সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয় |
| ১৮ ঘণ্টা তা দেওয়ার পর | ভ্রূণাঞ্চল ফুটে ওঠে |
| ২২ ঘণ্টা | নিউরাল পাত দুটি লম্বাটে অঞ্চল পরস্পরের নিকটে এসে নিউরাল বা মেডুলারি খাঁজে পরিণত হয় |
| ২৪ ঘণ্টা | নিউরাল ভাঁজ কাছাকাছি আসে এবং প্রথম সোমাইটের সামনে মিলিত হয়ে নিউরাল নালী গঠন করে |
| ৩০ ঘণ্টা | মস্তকের সামনে অ্যামনিওটিক মস্তক ভাঁজ উত্থিত হয় |
| তৃতীয় দিনের শেষ | অ্যালান্টয়েস উৎপন্ন হয় |
| চতুর্থ দিন | মস্তক ভাঁজ ও লেজ ভাঁজ মিলিত হয়ে অ্যামনিয়ন ভ্রূণকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ত্রিস্তরী প্রাণী কাকে বলে?
যে সকল প্রাণীতে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর—এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্ম—বিদ্যমান, তাদের ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। উদাহরণ: কেঁচো, আরশোলা, মেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি।
মুরগির ডিমের ক্লিভেজকে কেন মেরোব্লাস্টিক বা ডিসকয়ডাল বলা হয়?
ইয়ক ক্লিভেজে অংশ নেয় না এবং ক্লিভেজ শুধু জার্মিনাল অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। এ কারণে মুরগির ডিমের ক্লিভেজকে মেরোব্লাস্টিক ক্লিভেজ বা ডিসকয়ডাল সেগমেন্টেশন বলে।
মুরগির ভ্রূণের তিনটি জার্মিনাল স্তর কোথা থেকে গঠিত হয়?
এপিব্লাস্ট থেকে এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম এবং হাইপোব্লাস্ট থেকে শুধুমাত্র এন্ডোডার্ম স্তর গঠিত হয়।
প্রিমিটিভ স্ট্রিক কী এবং কখন সম্পূর্ণ গঠিত হয়?
এপিব্লাস্টের পশ্চাৎ অঞ্চলের মেসোডার্ম কোষগুলো পেলুসিড অঞ্চলে পশ্চাৎ প্রান্তীয় মধ্যরেখা বরাবর যে মূল অঞ্চল গঠন করে, তা থেকেই প্রিমিটিভ স্ট্রিকের উৎপত্তি। ১৮-১৯ ঘণ্টা তা দেওয়ার পর প্রিমিটিভ স্ট্রিক সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়।
হেনসেনের নোড কী?
প্রিমিটিভ পিটের সম্মুখে কতকগুলো কোষ একত্রিত হয়ে যে উঁচু স্থান গঠন করে তাকে হেনসেনের নোড বা হেড প্রসেস বলে। এখান থেকে কোষ ভিতরের দিকে প্রবেশ করে এক্টোডার্মের নিচে মধ্যরেখা বরাবর নটোকর্ড গঠন করে।
মুরগির ভ্রূণ পর্দা বা ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ কয়টি ও কী কী?
ভ্রূণবহির্ভূত আবরণ বা ভ্রূণ পর্দা চারটি—ইয়ক থলি (কুসুম থলি), অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন (সেরোসা) ও অ্যালান্টয়েস।
অ্যামনিয়ন ও অ্যালান্টয়েসের কাজ কী?
অ্যামনিয়ন প্রচুর পানি নিঃসৃত করে ভ্রূণকে নিমগ্ন রাখে এবং ভ্রূণকে বাইরের আঘাত ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। অ্যালান্টয়েস ভ্রূণের ফুসফুসের কাজ করে এবং এতে বর্জ্য পদার্থ জমা থাকে।
ডিম পাড়ার পর মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুরণ বন্ধ হয়ে যায় কেন?
ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের নিম্ন তাপের জন্য ভ্রূণের পরিস্ফুরণ বন্ধ হয়ে যায়। ডিমকে তা দেওয়া না হলে অথবা কৃত্রিমভাবে ৯৯°–১০১°F (৩৭°C–৩৮°C) তাপে না রাখা হলে ডিমের পরিস্ফুরণ হয় না।
পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন: মনে রাখার পয়েন্ট
- মুরগিতে অন্তর্নিষেক; নিষেকের ৩ ঘণ্টা পর প্রথম ক্লিভেজ।
- ক্লিভেজ মেরোব্লাস্টিক বা ডিসকয়ডাল; ইয়ক ক্লিভেজে অংশ নেয় না।
- এপিব্লাস্ট → এক্টোডার্ম ও মেসোডার্ম; হাইপোব্লাস্ট → এন্ডোডার্ম।
- ১৮-১৯ ঘণ্টা তা দেওয়ার পর প্রিমিটিভ স্ট্রিক সম্পূর্ণ গঠিত হয়।
- হেনসেনের নোড থেকে নটোকর্ড সামনের দিকে বৃদ্ধি পায়; ২৪ ঘণ্টা পর নিউরাল নালী গঠিত হয়।
- চারটি ভ্রূণ পর্দা: ইয়ক থলি, অ্যামনিয়ন, কোরিয়ন (সেরোসা), অ্যালান্টয়েস।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের অনার্স ৩য় বর্ষের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (ভ্রূণতত্ত্ব) বইয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী লেখা। এই লেখাটি Biology With Santo Sir-এর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন শান্ত স্যার, প্রভাষক (প্রাণিবিজ্ঞান), BAF শাহীন কলেজ, বগুড়া।