এক নজরে: Neanthes-এর ভ্রূণীয় বিকাশ (AI সংক্ষিপ্ত সারাংশ)
Neanthes হলো Annelida পর্বের Polychaeta শ্রেণির একলিঙ্গ সামুদ্রিক প্রাণী। এদের নিষেক বহির্নিষেক, যা সমুদ্রের পানিতে সোয়ারমিংয়ের সময় ঘটে। ক্লিভেজ সর্পিল ও অসম প্রকৃতির এবং গ্যাস্ট্রুলেশন সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়। ভ্রূণ বিকাশের ২৪ ঘণ্টা পর গ্যাস্ট্রুলা রূপান্তরিত হয়ে সিলিয়াধারী স্বচ্ছ লাটিমের মতো ট্রোকোফোর লার্ভা গঠন শুরু করে।
- বিকাশের ধাপ: জননকোষ উৎপাদন → নিষেক → ক্লিভেজ → ব্লাস্টুলেশন → গ্যাস্ট্রুলেশন → ট্রোকোফোর লার্ভা
- নিষেক: বহির্নিষেক, সোয়ারমিং ও ফার্টিলিয়ামের ভূমিকা
- ক্লিভেজ: সর্পিল ও অসম; মাইক্রোমিয়ার, ম্যাক্রোমিয়ার ও সোমাটোব্লাস্ট
- ট্রোকোফোর লার্ভায় এপিক্যাল প্লেট, প্রোটোট্রক, টেলোট্রক, স্টোমোডিয়াম ও প্রোক্টোডিয়াম
সিরিজ: ভ্রূণতত্ত্ব : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | পাঠ্যক্রম: অনার্স ৩য় বর্ষ, প্রাণিবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
তুমি এই সিরিজে আরো পড়তে পারো- Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশ: গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যন্ত …. মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুটন: তিনটি ভ্রূণীয় স্তর ও ভ্রূণ পর্দা ….. গ্যাস্ট্রুলেশন কী? বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক পরিবর্তন ও প্রকারভেদ
প্রশ্ন-১৩ । ট্রোকোফোর লার্ভা পর্যন্ত Neanthes-এর ভ্রূণীয় বিকাশ বর্ণনা কর। [জা.বি.(অনার্স)-২০০৯] [জা.বি.(অনার্স)-২০০৭]
ভ্রূণীয় বিকাশের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা
উত্তর : শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের মাধ্যমে জীবনের সূচনা হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুর বিভিন্ন ধরনের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিণত প্রাণীর সৃষ্টি হয়। নিষেক, ক্লিভেজ, ব্লাস্টুলেশন, গ্যাস্ট্রুলেশন, অর্গানোজেনেসিস ইত্যাদি বিভিন্ন ধাপে ভ্রূণীয় বিকাশ সংঘটিত হয়।
Neanthes কী? শ্রেণিবিন্যাস ও আবাস
Neanthes : Annelida পর্বভুক্ত Polychaeta শ্রেণির একলিঙ্গ প্রাণী হলো Neanthes। এরা সমুদ্র তীরবর্তী অগভীর পানিতে বসবাস করে। এদের পরিস্ফুটনের সামগ্রিক ঘটনা পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হলো :
| ধাপ | প্রধান ঘটনা |
|---|---|
| জননকোষ উৎপাদন | সিলোমিক অ্যাপিথেলিয়াম থেকে জননাঙ্গ গঠিত হয়; জননাঙ্গ নালীবিহীন, তাই জননকোষ সিলোমে বিমুক্ত হয় |
| নিষেক | বহির্নিষেক; সমুদ্রের পানিতে সোয়ারমিংয়ের সময় ঘটে; ফার্টিলিয়াম পুরুষকে শুক্রাণু নির্গমনে উদ্দীপ্ত করে |
| নিষেক পরবর্তী পরিবর্তন | ভেজিটাল পোল ও অ্যানিম্যাল পোল গঠিত হয়; জোনারিডিয়াটা অদৃশ্য হয়; পোলার বডি বহিষ্কৃত হয় |
| ক্লিভেজ | সর্পিল ও অসম; মাইক্রোমিয়ার, ম্যাক্রোমিয়ার ও সোমাটোব্লাস্ট উৎপন্ন হয় |
| ব্লাস্টুলেশন | নিরেট মরুলা থেকে একস্তর বিশিষ্ট ফাঁপা ব্লাস্টুলা; ভিতরের গহ্বর ব্লাস্টোসিল |
| গ্যাস্ট্রুলেশন | সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতিতে; দ্বিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা, গহ্বর আর্কেন্টেরন, ছিদ্র ব্লাস্টোপোর |
| ট্রোকোফোর লার্ভা | ভ্রূণ বিকাশের ২৪ ঘণ্টা পর গঠন শুরু; সিলিয়াধারী স্বচ্ছ লাটিমের মতো লার্ভা |
জননকোষ উৎপাদন: শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের গঠন
ক. জননকোষ উৎপাদন : প্রজনন ঋতুতে Neanthes-এর জননাঙ্গ গঠিত হয়। অঙ্গীয় সিলোমিক অ্যাপিথেলিয়াম থেকে জননাঙ্গ উৎপন্ন হয়। পঁচিশ খণ্ডকের মধ্যবর্তী কোন একটিতে একজোড়া শুক্রাশয় পুং প্রাণীতে থাকে। স্ত্রী প্রাণিদেহের রক্তনালীকে ঘিরে ডিম্বাশয় অবস্থান করে। জননাঙ্গগুলো নালীবিহীন তাই জননকোষগুলো সিলোমে বিমুক্ত হয়। এদের শুক্রাশয় থেকে স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণুগুলো সচল। একটি দণ্ডাকার মস্তক এবং একটি সঞ্চালনক্ষম লেজ নিয়ে শুক্রাণু গঠিত। ডিম্বাণুগুলো তুলনামূলকভাবে বড় ও গোলাকার। ডিম্বাণুতে বহুসংখ্যক তেল বিন্দু এবং কুসুম দানা থাকে।

নিষেক: বহির্নিষেক ও সোয়ারমিং
খ. নিষেক : Neanthes-এর নিষেক বহির্নিষেক। সমুদ্রের পানিতে নিষেক সম্পন্ন হয়। এদের নিষেকের সময় সোয়ারমিং ঘটে। গ্রীষ্মকালের অন্ধকার রাত্রে পুরুষ সদস্যরা প্রজননক্ষম স্ত্রী সদস্যকে ঘিরে দ্রুত সাঁতার কাটতে থাকে। এ সময় পরিপক্ক স্ত্রীর দেহমধ্যস্থ ডিম্বাণু থেকে ফার্টিলিয়াম নামক এক ধরনের উত্তেজক পদার্থ নিঃসৃত হয় যা পুরুষকে শুক্রাণু নির্গমনে উদ্দীপ্ত করে। এরপর স্ত্রী প্রাণীগুলো ডিম্বাণু নির্গত করে। শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর কাছে আসে এবং ডিম্ব পর্দা ভেদ করে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। ফলে জাইগোট গঠিত হয়। ডিম দেয়ার পর স্ত্রী প্রাণীগুলো মারা যায়। সম্ভবত পুং প্রাণীরাও বেশি দিন বাঁচে না।
নিষেক পরবর্তী ডিম্বাণুর পরিবর্তন
গ. নিষেক পরবর্তী ডিম্বাণুর পরিবর্তন : নিষেকের পর ডিম্বাণুতে একাধিক পরিবর্তন ঘটে। কুসুম দানাগুলো ডিম্বাণুর নিচের দিকে জড়ো হয় এবং ভেজিটাল পোল গঠন করে। ডিম্বাণুর উপরের দিকটা এ অবস্থায় স্বচ্ছ অ্যানিম্যাল পোল গঠন করে। জোনারিডিয়াটা অদৃশ্য হয়। অ্যানিম্যাল পোল থেকে পোলার বডি বহিষ্কৃত হয়। ফলে জাইগোট গোলাকৃতি ধারণ করে। এরপর ক্লিভেজ শুরু হয়ে যায়।
ক্লিভেজ: Neanthes-এর সর্পিল ক্লিভেজ
ঘ. ক্লিভেজ : Neanthes-এর ক্লিভেজ সর্পিলাকার। প্রথম ও দ্বিতীয় ক্লিভেজ লম্বতল বরাবর সংঘটিত হয়। এর ফলে ৪টি ব্লাস্টোমিয়ার উৎপন্ন হয়। এগুলোর মধ্যে একটি ব্লাস্টোমিয়ার কিছুটা বড় হয়। তৃতীয় ক্লিভেজ অসমভাবে ঘটে ফলে উপরের দিকে কুসুমবিহীন সমআকারের ৪টি ক্ষুদ্রাকার মাইক্রোমিয়ার উৎপন্ন হয়। আর মাইক্রোমিয়ারের নিচে থাকে সমআকারের ৪টি বৃহদাকার ম্যাক্রোমিয়ার। এরপর ম্যাক্রোমিয়ারগুলোতে চতুর্থ ক্লিভেজ সংঘটিত হয়।
চতুর্থ ক্লিভেজও অসম প্রকৃতির। চতুর্থ ক্লিভেজের ফলে পূর্বের ৪টি ম্যাক্রোমিয়ার থেকে ৪টি করে মাইক্রো ও ম্যাক্রোমিয়ার উৎপন্ন হয়। এই ৪টি মাইক্রোমিয়ারের ভিতর ১টি বড় হয় একে প্রথম সোমাটোব্লাস্ট বলে। চতুর্থ ক্লিভেজ শেষে ব্লাস্টোমিয়ারের সংখ্যা হয় ১২। পঞ্চম ক্লিভেজও ৪টি ম্যাক্রোমিয়ারকে আগের মতো অসমভাবে বিভাজিত করে এবং ৪টি করে মাইক্রো ও ম্যাক্রোমিয়ার উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রেও ৪টি মাইক্রোমিয়ারের ১টি বড় থাকে একে দ্বিতীয় সোমাটোব্লাস্ট বলে।

পঞ্চম ক্লিভেজ শেষে ভ্রূণের ব্লাস্টোমিয়ারের সংখ্যা হয় ১৬টি। বিভাজনের অগ্রগতির ফলে ম্যাক্রোমিয়ার অপেক্ষা মাইক্রোমিয়ারের সংখ্যা বেশি হয়। মাইক্রোমিয়ার অ্যানিম্যাল পোল আর ম্যাক্রোমিয়ার ভেজিটাল পোল নির্দেশ করে। মাইক্রোমিয়ারগুলো ম্যাক্রোমিয়ার থেকে উৎপন্ন হলেও সরাসরি তাদের উপর অবস্থান করে না। বিভাজনের সময় পর্যায়ক্রমে ডানে, বামে এবং উভয় পার্শ্বে অবস্থান করে। এজন্য এ ধরনের ক্লিভেজকে সর্পিল ক্লিভেজ বলে।

ব্লাস্টুলেশন: মরুলা থেকে ব্লাস্টুলা
ঙ. ব্লাস্টুলেশন : ক্লিভেজের ফলে ভ্রূণটি নিরেট গোলকের রূপ নেয়। এ অবস্থাকে বলে মরুলা। মরুলার ভিতর তরল পদার্থ জমে একস্তর বিশিষ্ট ফাঁপা যে ভ্রূণ সৃষ্টি হয় তাকে ব্লাস্টুলা বলে। ব্লাস্টুলার ভিতরের গহ্বরকে বলে ব্লাস্টোসিল।
গ্যাস্ট্রুলেশন: সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতি
চ. গ্যাস্ট্রুলেশন : মাইক্রোমিয়ারগুলো দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে এবং ক্রমাগত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভেজিটাল পোলের একবারে নিচে একটি ছিদ্র রেখে ৪টি ম্যাক্রোমিয়ারকে সম্পূর্ণ আবৃত করে ফেলে। নিচের ছিদ্রটিকে ব্লাস্টোপোর বলা হয়। এ অবস্থায় ভ্রূণটি দ্বিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা গঠন করে। গ্যাস্ট্রুলার ভিতরের গহ্বরকে আর্কেন্টেরন বলে। সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতিতে Neanthes-এর গ্যাস্ট্রুলেশন সংঘটিত হয়। নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্যাস্ট্রুলা রূপান্তরিত হয়ে আদর্শ ট্রোকোফোর লার্ভা গঠন করে।

ট্রোকোফোর লার্ভা সৃষ্টি
ছ. ট্রোকোফোর লার্ভা সৃষ্টি : ভ্রূণ বিকাশের ২৪ ঘণ্টা পর ট্রোকোফোর লার্ভার গঠন শুরু হয়। গ্যাস্ট্রুলার উপরের বা মস্তক প্রান্তের এক্টোডার্মাল কোষগুলোর পুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়ে এপিক্যাল প্লেট গঠিত হয়। বাস্তবিক পক্ষে এপিক্যাল প্লেট হলো মস্তকের অঙ্কুর। এপিক্যাল প্লেটের উপর একগুচ্ছ সিলিয়া এবং রঞ্জক বিন্দুরূপে একজোড়া চক্ষু সৃষ্টি হয়। একই সময়ে দেহের মধ্যাঞ্চলকে ঘিরে একটি লম্বা সিলিয়া বেষ্টনী আবির্ভূত হয়।
এই সিলিয়া বেষ্টনীকে প্রোটোট্রক বলে। দেহের নিম্নভাগে অর্থাৎ লেজ প্রান্তে একই ধরনের আর একটি সিলিয়া বেষ্টনী উৎপন্ন হয়। নিম্নভাগের এই সিলিয়া বেষ্টনীর নাম টেলোট্রক। প্রোটোট্রকের ঠিক পিছনে ভবিষ্যৎ অঙ্গীয়তলের মধ্যস্থানের এক্টোডার্মাল কোষগুলো কিছুটা ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং একটি ক্ষুদ্রাকার গর্ত সৃষ্টি করে। এই গর্তটিকে স্টোমোডিয়াম বা অগ্রান্ত্র বলে। স্টোমোডিয়াম হলো মুখছিদ্র, মুখ গহ্বর এবং গলবিলের পূর্বাবস্থা। প্রোটোট্রকের পিছনে অঙ্গীয়তলের এক্টোডার্ম থেকে অঙ্গীয় প্লেট গঠিত হয়। এখান থেকে স্নায়ু রজ্জু গঠনের সূত্রপাত ঘটে।
এন্ডোডার্মের কোষগুলো একস্তরে সজ্জিত হয়ে একটি ফাঁপা নলের মতো গঠন তৈরি করে। নলাকার এই গঠনটি থেকে মধ্যান্ত্র উৎপন্ন হয়। ইতোমধ্যে ব্লাস্টোপোর স্থানে এক্টোডার্মাল কোষগুলো ভিতরে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে পশ্চান্ত্র বা প্রোক্টোডিয়াম গঠন করে। মধ্যান্ত্র সম্মুখভাগে স্টোমোডিয়াম এবং পশ্চাতে প্রোক্টোডিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিপাকনালী তৈরি করে। প্রোক্টোডিয়াম থেকে পরবর্তীতে পায়ু ও মলাশয় সৃষ্টি হয়। লার্ভার পরিপাকনালী ঘিরে অবস্থান করে তরলপূর্ণ প্রশস্ত ব্লাস্টোসিল।
ব্লাস্টোসিলের মধ্যে লার্ভার পেশি শাখান্বিত মেসেনকাইমা কোষ এবং একজোড়া নেফ্রিডিয়া উপস্থিত থাকে। লার্ভার নেফ্রিডিয়ার গঠন শিখা কোষের অনুরূপ। ব্লাস্টোসিলে অন্যান্য পদার্থের মধ্যে থাকে দ্বিতীয় সোমাটোব্লাস্ট উদ্ভূত মেসোডার্মাল কলা। এ অবস্থায় ট্রোকোফোর লার্ভা পূর্ণতা লাভ করে। পূর্ণ গঠিত ট্রোকোফোর লার্ভা দেখতে সিলিয়াধারী স্বচ্ছ লাটিমের মতো। ট্রোকোফোরে কোন সিলোম থাকে না এবং খণ্ডায়নের কোন নিদর্শন অনুপস্থিত।

তুমি উপরের বর্ণনা না পারলে নিচের এই টুকু লিখে দিলেই হবে।
| গঠন | বিবরণ |
|---|---|
| এপিক্যাল প্লেট | গ্যাস্ট্রুলার মস্তক প্রান্তের এক্টোডার্মাল কোষের পুরুত্ব বৃদ্ধিতে গঠিত; মস্তকের অঙ্কুর; এর উপর একগুচ্ছ সিলিয়া ও একজোড়া চক্ষু |
| প্রোটোট্রক | দেহের মধ্যাঞ্চলকে ঘিরে থাকা লম্বা সিলিয়া বেষ্টনী |
| টেলোট্রক | দেহের নিম্নভাগে বা লেজ প্রান্তে থাকা সিলিয়া বেষ্টনী |
| স্টোমোডিয়াম (অগ্রান্ত্র) | প্রোটোট্রকের পিছনে এক্টোডার্মাল কোষ ঢুকে সৃষ্ট গর্ত; মুখছিদ্র, মুখ গহ্বর ও গলবিলের পূর্বাবস্থা |
| অঙ্গীয় প্লেট | অঙ্গীয়তলের এক্টোডার্ম থেকে গঠিত; এখান থেকে স্নায়ু রজ্জু গঠনের সূত্রপাত |
| মধ্যান্ত্র | এন্ডোডার্মের কোষ একস্তরে সজ্জিত হয়ে সৃষ্ট ফাঁপা নলাকার গঠন থেকে উৎপন্ন |
| প্রোক্টোডিয়াম (পশ্চান্ত্র) | ব্লাস্টোপোর স্থানে এক্টোডার্মাল কোষ অনুপ্রবিষ্ট হয়ে গঠিত; পরবর্তীতে পায়ু ও মলাশয় সৃষ্টি হয় |
| নেফ্রিডিয়া | একজোড়া; গঠন শিখা কোষের অনুরূপ |
| ব্লাস্টোসিল | তরলপূর্ণ প্রশস্ত গহ্বর; এতে পেশি, শাখান্বিত মেসেনকাইমা কোষ ও দ্বিতীয় সোমাটোব্লাস্ট উদ্ভূত মেসোডার্মাল কলা থাকে |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
Neanthes কী এবং কোন পর্ব ও শ্রেণির প্রাণী?
Neanthes হলো Annelida পর্বভুক্ত Polychaeta শ্রেণির একলিঙ্গ প্রাণী। এরা সমুদ্র তীরবর্তী অগভীর পানিতে বসবাস করে।
Neanthes-এর নিষেক কীরূপ?
Neanthes-এর নিষেক বহির্নিষেক, যা সমুদ্রের পানিতে সম্পন্ন হয়। নিষেকের সময় সোয়ারমিং ঘটে এবং নিষেকের ফলে জাইগোট গঠিত হয়।
সোয়ারমিং কাকে বলে?
Neanthes-এর নিষেকের সময় গ্রীষ্মকালের অন্ধকার রাত্রে পুরুষ সদস্যরা প্রজননক্ষম স্ত্রী সদস্যকে ঘিরে দ্রুত সাঁতার কাটতে থাকে—এ ঘটনাকে সোয়ারমিং বলা হয়।
ফার্টিলিয়াম কী?
পরিপক্ক স্ত্রীর দেহমধ্যস্থ ডিম্বাণু থেকে নিঃসৃত এক ধরনের উত্তেজক পদার্থ হলো ফার্টিলিয়াম, যা পুরুষকে শুক্রাণু নির্গমনে উদ্দীপ্ত করে।
Neanthes-এর ক্লিভেজকে কেন সর্পিল ক্লিভেজ বলে?
মাইক্রোমিয়ারগুলো ম্যাক্রোমিয়ার থেকে উৎপন্ন হলেও সরাসরি তাদের উপর অবস্থান করে না; বিভাজনের সময় পর্যায়ক্রমে ডানে, বামে এবং উভয় পার্শ্বে অবস্থান করে। এজন্য একে সর্পিল ক্লিভেজ বলে।
Neanthes-এর গ্যাস্ট্রুলেশন কোন পদ্ধতিতে ঘটে?
সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতিতে। এতে মাইক্রোমিয়ারগুলো ক্রমাগত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ৪টি ম্যাক্রোমিয়ারকে আবৃত করে এবং একটি ছিদ্র—ব্লাস্টোপোর—অবশিষ্ট থাকে।
ট্রোকোফোর লার্ভা কী? দেখতে কেমন?
ট্রোকোফোর লার্ভা Neanthes-এর ভ্রূণীয় বিকাশের লার্ভা দশা। পূর্ণ গঠিত ট্রোকোফোর লার্ভা দেখতে সিলিয়াধারী স্বচ্ছ লাটিমের মতো। এতে কোন সিলোম থাকে না এবং খণ্ডায়নের কোন নিদর্শন অনুপস্থিত।
স্টোমোডিয়াম ও প্রোক্টোডিয়াম কী?
স্টোমোডিয়াম বা অগ্রান্ত্র হলো মুখছিদ্র, মুখ গহ্বর ও গলবিলের পূর্বাবস্থা। প্রোক্টোডিয়াম বা পশ্চান্ত্র থেকে পরবর্তীতে পায়ু ও মলাশয় সৃষ্টি হয়।
পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন: মনে রাখার পয়েন্ট
- Neanthes: Annelida পর্ব, Polychaeta শ্রেণি, একলিঙ্গ প্রাণী।
- নিষেক বহির্নিষেক; সোয়ারমিং ও ফার্টিলিয়াম গুরুত্বপূর্ণ।
- ক্লিভেজ সর্পিল ও অসম; প্রথম ও দ্বিতীয় সোমাটোব্লাস্ট গঠিত হয়।
- গ্যাস্ট্রুলেশন সম্পূর্ণ এপিবলিক পদ্ধতিতে ঘটে।
- ট্রোকোফোর লার্ভায় এপিক্যাল প্লেট, প্রোটোট্রক ও টেলোট্রক থাকে; সিলোম থাকে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের অনার্স ৩য় বর্ষের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (ভ্রূণতত্ত্ব) বইয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী লেখা। এই লেখাটি Biology With Santo Sir-এর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন শান্ত স্যার, প্রভাষক (প্রাণিবিজ্ঞান), BAF শাহীন কলেজ, বগুড়া।