এক নজরে: Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশ (AI সংক্ষিপ্ত সারাংশ)
Branchiostoma কর্ডাটা পর্বের Cephalochordata উপ-পর্বভুক্ত একটি একলিঙ্গ সামুদ্রিক প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে এদের বহির্নিষেক ঘটে। ডিম্বাণু মাইক্রোলেসিথাল ও আইসোলেসিথাল। ষষ্ঠ ক্লিভেজে ৬৪ কোষের মরুলা দশা হয়, এরপর নাশপাতির মতো ব্লাস্টুলা গঠিত হয়। গ্যাস্ট্রুলেশন সাধারণত ইনভ্যাজিনেশন পদ্ধতিতে ঘটে এবং ভ্রূণ দ্বিস্তরী কাপের মতো গ্যাস্ট্রুলায় পরিণত হয়; তবে এর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য আছে।
- প্রজননতন্ত্র: ২৬-২৭ জোড়া গোনাড, জনননালী নেই
- ক্লিভেজ: ব্লাস্টিক ধরনের; মরুলা, তারপর ব্লাস্টুলা
- ব্লাস্টুলার কোষের নির্দিষ্ট পরিণতি: এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম, মেসোডার্ম ও নটোকর্ড
- গ্যাস্ট্রুলেশনে আর্কেন্টেরন গঠন ও ব্লাস্টোপোরের পায়ুছিদ্রে পরিণত হওয়া
সিরিজ: ভ্রূণতত্ত্ব : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | পাঠ্যক্রম: অনার্স ৩য় বর্ষ, প্রাণিবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
এই সিরিজে আরো প্রশ্ন দেখো- মুরগির ভ্রূণের পরিস্ফুটন: তিনটি ভ্রূণীয় স্তর ও ভ্রূণ পর্দা … Neanthes-এর ভ্রূণীয় বিকাশ: ট্রোকোফোর লার্ভা পর্যন্ত ….. গ্যাস্ট্রুলেশন কী? বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক পরিবর্তন ও প্রকারভেদ
প্রশ্ন-১৬ । গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যন্ত Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশ বর্ণনা কর।
[জা.বি.(অনার্স)-২০০৫, ২০০৭, ২০০৯]
Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশের ভূমিকা
একটি জীবনের শুরু হয় ডিম্বাণু থেকে। আর ডিম্বাণু বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি পরিণত জীবের জন্ম দেয়। গ্যামেটোজেনেসিস, নিষেক, ব্লাস্টুলেশন, গ্যাস্ট্রুলেশন, অর্গানোজেনেসিস ইত্যাদি পর্যায়ক্রমিক ধাপের মাধ্যমে ভ্রূণের বিকাশ ঘটে। নিম্নে Branchiostoma-র ভ্রূণবিকাশ বর্ণনা করা হলো :
Branchiostoma কী? পরিচিতি ও আবাস
Branchiostoma : Branchiostoma কর্ডাটা পর্বের অধীন Cephalochordata উপ-পর্বভুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রাণী। Branchiostoma মৎস্য সাদৃশ্য এবং ক্ষুদ্রাকার, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫.৮cm পর্যন্ত হয়। সমুদ্র উপকূলবর্তী অগভীর পানিতে এরা বসবাস করে।
Branchiostoma-র প্রজননতন্ত্র
Branchiostoma-র প্রজননতন্ত্র : Branchiostoma একলিঙ্গ প্রাণী। তবে যৌন দ্বিরূপতা না থাকায় পুরুষ ও স্ত্রী সদস্য দেখতে একই রকম।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| লিঙ্গ | একলিঙ্গ; যৌন দ্বিরূপতা নেই |
| জননাঙ্গ | ২৬-২৭ জোড়া একই ধরনের জননাঙ্গ |
| অবস্থান | দেহের ২৫–৫১ খণ্ডক পর্যন্ত দুই সারিতে জোড়ায় জোড়ায় |
| জনননালী | নেই; গোনাডের প্রাচীরের দুর্বল স্থান ভেঙে জননকোষ অ্যাট্রিয়ামে মুক্ত হয় |
| ডিম্বাণু | বেশ বড়, মোটামুটি গোলাকার; মাইক্রোলেসিথাল ও আইসোলেসিথাল |
| নিষেক | বহির্নিষেক, সমুদ্রের পানিতে |
জননাঙ্গসমূহ
জননাঙ্গসমূহ : পরিণত Branchiostoma-এর দেহে ২৬-২৭ জোড়া একই ধরনের জননাঙ্গ থাকে। দেহের ২৫–৫১ খণ্ডক পর্যন্ত দুই সারিতে জোড়ায় জোড়ায় জননাঙ্গগুলো অবস্থান করে। গলবিলীয় অঞ্চলের মধ্যাঞ্চল থেকে অ্যাট্রিওপোর পর্যন্ত দেহের অঙ্গ-পার্শ্বীয়তলে মায়োটোমের নিচে গোনাডগুলো অবস্থিত।
জননকোষসমূহ: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু
জননকোষসমূহ : শুক্রাশয়ের জার্মকোষ থেকে স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ের জার্মকোষ থেকে উওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। আদর্শ শুক্রাণুর মতই অ্যাক্রোজোমসহ নিউক্লিয়াসধারী একটি মস্তক, একটি মধ্যখণ্ড এবং একটি লম্বা লেজ নিয়ে Branchiostoma-র শুক্রাণু গঠিত। Branchiostoma-র ডিম্বাণু বেশ বড় এবং মোটামুটি গোলাকার। ডিম্বাণুটি মাইক্রোলেসিথাল এবং আইসোলেসিথাল ধরনের।
Branchiostoma-র গোনাডে কোন জনননালী থাকে না। গোনাডের প্রাচীরের কিছু দুর্বল স্থান বরাবর ভাঙনের ফলে জননকোষগুলো অ্যাট্রিয়ামে মুক্ত হয়। বহির্গামী পানিস্রোতের সাহায্যে জননকোষগুলো দেহের বাইরে সমুদ্রের পানিতে এসে পৌঁছে।
নিষেক: বহির্নিষেক ও অ্যাম্ফিমিক্সিস
নিষেক : সমুদ্রের পানিতে Branchiostoma-র বহির্নিষেক ঘটে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে সাধারণত Branchiostoma সন্তরণ অবস্থায় থাকে। এই সময়েই পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যের জননাঙ্গ থেকে সমুদ্রের পানিতে যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু বিমুক্ত হয়। শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর কাছাকাছি আসে এবং জোনাপেলুসিডা ভেদ করে ডিম্বাণুর ভিতরে প্রবেশ করে। একটি মাত্র শুক্রাণুই একটি ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে। কারণ একটি শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করার পর নিষেক পর্দা গঠিত হয় ফলে অন্যান্য শুক্রাণু আর ডিম্বাণুতে প্রবেশ করতে পারে না। ডিম্বাণুতে প্রবেশ করার পর শুক্রাণুর প্রো-নিউক্লিয়াস ও ডিম্বাণুর প্রো-নিউক্লিয়াস অ্যাম্ফিমিক্সিস প্রক্রিয়ায় মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে।

ক্লিভেজ: ব্লাস্টিক ক্লিভেজ ও মরুলা দশা
ক্লিভেজ : জাইগোটে মাইটোসিস কোষ বিভাজনে বহুকোষী ভ্রূণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লিভেজ বলে। Branchiostoma-র ক্লিভেজ হলো ব্লাস্টিক ধরনের। প্রথম ক্লিভেজ মধ্যঅক্ষ বরাবর ঘটে যা জাইগোটকে দুটি সমআকারের ব্লাস্টোমিয়ারে পরিণত করে। দ্বিতীয় ক্লিভেজও মধ্যতলীয়, তবে প্রথম ক্লিভেজের সাথে ঠিক সমকোণে সংঘটিত হয়।
দ্বিতীয় ক্লিভেজে ৪টি সমআকারের ব্লাস্টোমিয়ার উৎপন্ন হয়। ক্লিভেজ খাত নিরক্ষরেখার কিছু উপর দিয়ে যাওয়ার ফলে তৃতীয় সেট ক্লিভেজ অক্ষাংশ বরাবর ঘটে। চতুর্থ ক্লিভেজ ঘটার ফলে তৃতীয় ক্লিভেজে সৃষ্ট ৮টি ব্লাস্টোমিয়ার ১৬টি কোষ সৃষ্টি করে।
তৃতীয় ও চতুর্থ ক্লিভেজে সৃষ্ট কোষগুলো অর্ধেক ছোট আকৃতি বিশিষ্ট হয় এদের মাইক্রোমিয়ার বলে। এগুলো জাইগোটের উপরের দিকে থাকে আর অর্ধেক বড় আকৃতি বিশিষ্ট হয় এগুলো নিচের দিকে থাকে, এদের ম্যাক্রোমিয়ার বলে।
চতুর্থ ক্লিভেজের পর পর্যায়ক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ ক্লিভেজ সংঘটিত হয়। ফলে ৩২টি ও ৬৪টি কোষ বিশিষ্ট ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠ ক্লিভেজ পর্যন্ত ব্লাস্টোমিয়ারগুলো পরস্পর শিথিলভাবে আবদ্ধ থেকে গোলাকার পিণ্ডের মতো একটি গঠন তৈরি করে। একে ভ্রূণের মরুলা দশা বলে। Branchiostoma-র ক্লিভেজ প্রথম দিকে ১৫-২০ মিনিট পর পর ঘটে।

উপরের বর্ণনা না পারলে তুমি নিচের এটা লিখতে পারো
| ক্লিভেজ | কীভাবে ঘটে | ফলাফল |
|---|---|---|
| প্রথম | মধ্যঅক্ষ বরাবর | ২টি সমআকারের ব্লাস্টোমিয়ার |
| দ্বিতীয় | মধ্যতলীয়, প্রথম ক্লিভেজের সাথে সমকোণে | ৪টি সমআকারের ব্লাস্টোমিয়ার |
| তৃতীয় | নিরক্ষরেখার কিছু উপর দিয়ে, অক্ষাংশ বরাবর | ৮টি ব্লাস্টোমিয়ার |
| চতুর্থ | পর্যায়ক্রমে | ১৬টি কোষ |
| পঞ্চম | পর্যায়ক্রমে | ৩২টি কোষ |
| ষষ্ঠ | পর্যায়ক্রমে | ৬৪টি কোষ; মরুলা দশা |
ব্লাস্টুলেশন: নাশপাতির মতো ব্লাস্টুলা গঠন
ব্লাস্টুলেশন : মরুলার কেন্দ্রভাগে অর্ধতরল পদার্থ সঞ্চিত হয়ে কেন্দ্রের কোষগুলোকে পরিধির দিকে ঠেলে দেয়। পরিধির দিকে ব্লাস্টোমিয়ারগুলো একস্তরে সজ্জিত হয় এবং ব্লাস্টোডার্ম গঠন করে। এই ফাঁপা বলের মতো ভ্রূণকে বলে ব্লাস্টুলা এবং ব্লাস্টুলা সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বলে ব্লাস্টুলেশন।
ব্লাস্টুলার ভিতরের গহ্বরকে বলে ব্লাস্টোসিল। Branchiostoma-র ব্লাস্টুলা দেখতে নাশপাতির মতো, এতে দুইশ’র বেশি সংখ্যক কোষ থাকতে পারে। ব্লাস্টুলার পশ্চাৎ প্রান্ত কিছুটা সরু থাকে। ভ্রূণের দেহ গঠনে এর কোষগুলোর পরিণতি সুনির্দিষ্ট। ব্লাস্টুলার অঙ্গীয় পার্শ্বের ক্ষুদ্রাকার মাইক্রোমিয়ার থেকে এক্টোডার্ম এবং পৃষ্ঠভাগের কুসুম সমৃদ্ধ ম্যাক্রোমিয়ার থেকে ভবিষ্যৎ এন্ডোডার্ম গঠিত হয়।
পশ্চাৎ পার্শ্বভাগের দানাদার কোষগুলো মূলত সুপ্ত মেসোডার্ম। সম্মুখ পৃষ্ঠদেশের একটি ক্ষুদ্র এলাকা এক্টোডার্ম জাতীয় নটোকর্ড কোষ ধারণ করে।

| ব্লাস্টুলার অংশ | ভবিষ্যৎ পরিণতি |
|---|---|
| অঙ্গীয় পার্শ্বের ক্ষুদ্রাকার মাইক্রোমিয়ার | এক্টোডার্ম |
| পৃষ্ঠভাগের কুসুম সমৃদ্ধ ম্যাক্রোমিয়ার | ভবিষ্যৎ এন্ডোডার্ম |
| পশ্চাৎ পার্শ্বভাগের দানাদার কোষ | সুপ্ত মেসোডার্ম |
| সম্মুখ পৃষ্ঠদেশের একটি ক্ষুদ্র এলাকা | নটোকর্ড কোষ |
গ্যাস্ট্রুলেশন: ইনভ্যাজিনেশন ও আর্কেন্টেরন গঠন
গ্যাস্ট্রুলেশন : যে প্রক্রিয়ায় একস্তরী ব্লাস্টুলা থেকে দ্বিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা তৈরি হয় তাকে গ্যাস্ট্রুলেশন বলে। Branchiostoma-র গ্যাস্ট্রুলেশন ঠিক কীভাবে ঘটে সে বিষয়ে বেশ মতপার্থক্য আছে। তবে একটি সাধারণ পদ্ধতি হলো-শুরুতে অঙ্গীয়দেশের ক্ষুদ্রাকার কোষগুলো দ্রুতহারে বিভাজিত হতে থাকে।
এর ফলে পৃষ্ঠীয়দেশে ম্যাক্রোমিয়ার বা এন্ডোডার্মাল কোষগুলো প্রথমে চ্যাপ্টা হয়ে যায় ও পরে ভাঁজ খেয়ে ধীরে ধীরে ব্লাস্টোসিলের মধ্যে ঢুকে পড়ে এই পদ্ধতিটিকে ইনভ্যাজিনেশন বলে। ইনভ্যাজিনেশন অব্যাহত থাকায় ব্লাস্টোসিল ক্রমশ সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং সবশেষে অদৃশ্য হয়ে যায়। একই সাথে আর্কেন্টেরন নামক নতুন একটি গহ্বর আবির্ভূত হয়।
যে চওড়া ছিদ্রের মাধ্যমে আর্কেন্টেরন বাইরে উন্মুক্ত হয় তাকে ব্লাস্টোপোর বলে। এই অবস্থায় ভ্রূণটি দ্বি-স্তরী কাপের মতো গঠন লাভ করে, যার নাম গ্যাস্ট্রুলা। দুটি কোষস্তরে বাইরের স্তরকে বলে এক্টোডার্ম আর ভিতরের স্তরকে বলে এন্ডোডার্ম। ব্লাস্টোপোরের কিনারাকে ওষ্ঠ বলে। পৃষ্ঠীয় ওষ্ঠে নটোকর্ড গঠনকারী কোষ এবং অঙ্গীয় ওষ্ঠে মেসোডার্ম গঠনকারী কোষ অবস্থান করে।

নটোকর্ড, মেসোডার্ম ও স্নায়ু গঠনকারী কোষের সঞ্চালন
পরবর্তীতে নটোকর্ড গঠনকারী কোষ ইনভলুশন প্রক্রিয়ায় আর্কেন্টেরনের মধ্যপৃষ্ঠীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয় এবং মেসোডার্ম গঠনকারী কোষ নটোকর্ডের দুই পার্শ্বে অবস্থান নেয়। একই সাথে স্নায়ু গঠনকারী কোষসমূহ ভ্রূণের অগ্র ও পশ্চাৎ অক্ষ বরাবর সঞ্চালিত হয়। এই সকল ঘটনা চলাকালে ব্লাস্টোপোরের ওষ্ঠ পশ্চাৎ দিকে বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে অগ্র ও পশ্চাৎ অক্ষ বরাবর ভ্রূণটি দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। ব্লাস্টোপোরটি পশ্চাৎ দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে এটি পায়ুছিদ্রে পরিণত হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
Branchiostoma কী?
Branchiostoma কর্ডাটা পর্বের অধীন Cephalochordata উপ-পর্বভুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রাণী। এটি মৎস্য সাদৃশ্য ও ক্ষুদ্রাকার, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫.৮ cm পর্যন্ত হয় এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী অগভীর পানিতে বসবাস করে।
Branchiostoma-র ডিম্বাণু কী ধরনের?
Branchiostoma-র ডিম্বাণু বেশ বড় ও মোটামুটি গোলাকার। এটি মাইক্রোলেসিথাল এবং আইসোলেসিথাল ধরনের।
Branchiostoma-র জননকোষ কীভাবে দেহের বাইরে আসে?
গোনাডে কোন জনননালী থাকে না। গোনাডের প্রাচীরের কিছু দুর্বল স্থান বরাবর ভাঙনের ফলে জননকোষগুলো অ্যাট্রিয়ামে মুক্ত হয় এবং বহির্গামী পানিস্রোতের সাহায্যে সমুদ্রের পানিতে এসে পৌঁছে।
একটি ডিম্বাণু কেন কেবল একটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়?
একটি শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করার পর নিষেক পর্দা গঠিত হয়, ফলে অন্যান্য শুক্রাণু আর ডিম্বাণুতে প্রবেশ করতে পারে না।
Branchiostoma-র ক্লিভেজ কীরূপ?
Branchiostoma-র ক্লিভেজ ব্লাস্টিক ধরনের। প্রথম ও দ্বিতীয় ক্লিভেজ মধ্যতলীয় ও পরস্পর সমকোণে ঘটে; তৃতীয় ক্লিভেজ অক্ষাংশ বরাবর ঘটে। ষষ্ঠ ক্লিভেজ পর্যন্ত ব্লাস্টোমিয়ারগুলো শিথিলভাবে আবদ্ধ থেকে মরুলা গঠন করে। ক্লিভেজ প্রথম দিকে ১৫-২০ মিনিট পর পর ঘটে।
Branchiostoma-র ব্লাস্টুলা দেখতে কেমন?
Branchiostoma-র ব্লাস্টুলা দেখতে নাশপাতির মতো এবং এতে দুইশ’র বেশি কোষ থাকতে পারে। ব্লাস্টুলার পশ্চাৎ প্রান্ত কিছুটা সরু থাকে।
Branchiostoma-র গ্যাস্ট্রুলেশন কীভাবে ঘটে?
গ্যাস্ট্রুলেশনের পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য আছে। একটি সাধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী, পৃষ্ঠীয়দেশের এন্ডোডার্মাল কোষগুলো ইনভ্যাজিনেশনের মাধ্যমে ব্লাস্টোসিলের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ফলে ব্লাস্টোসিল অদৃশ্য হয়, আর্কেন্টেরন নামক নতুন গহ্বর আবির্ভূত হয় এবং ভ্রূণ দ্বিস্তরী কাপের মতো গ্যাস্ট্রুলায় পরিণত হয়।
গ্যাস্ট্রুলেশনের পর ব্লাস্টোপোরের কী পরিণতি হয়?
ব্লাস্টোপোরটি পশ্চাৎ দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে এটি পায়ুছিদ্রে পরিণত হয়।
পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন: মনে রাখার পয়েন্ট
- Branchiostoma: কর্ডাটা পর্ব, Cephalochordata উপ-পর্ব; একলিঙ্গ, যৌন দ্বিরূপতা নেই।
- গোনাডে জনননালী নেই; জননকোষ অ্যাট্রিয়ামে মুক্ত হয়।
- ডিম্বাণু মাইক্রোলেসিথাল ও আইসোলেসিথাল; নিষেক বহির্নিষেক।
- ক্লিভেজ ব্লাস্টিক; ষষ্ঠ ক্লিভেজে ৬৪ কোষের মরুলা দশা।
- ব্লাস্টুলা নাশপাতির মতো; গ্যাস্ট্রুলেশনে আর্কেন্টেরন ও ব্লাস্টোপোর গঠিত হয়; ব্লাস্টোপোর পরে পায়ুছিদ্রে পরিণত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের অনার্স ৩য় বর্ষের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি (ভ্রূণতত্ত্ব) বইয়ের প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী লেখা। এই লেখাটি Biology With Santo Sir-এর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন সান্তো স্যার, প্রভাষক (প্রাণিবিজ্ঞান), BAF শাহীন কলেজ, বগুড়া।