মেন্ডেলের ১ম ও ২য় সূত্র আবিষ্কারের পটভূমি

মেন্ডেলের ১ম সূত্র আবিষ্কারের পটভূমি

শুরুতে মেন্ডেল লম্বা এবং খাটো এই বিপরীত লক্ষণযুক্ত দুধরনের মটরশুঁটি গাছ নিয়ে তাঁর পরীক্ষা শুরু করেছিলেন। পরীক্ষা শুরু করার আগে তিনি মটরশুঁটি গাছের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে নেন। এরপর শুদ্ধ লক্ষণযুক্ত একটি লম্বা উদ্ভিদের সঙ্গে শুদ্ধ লক্ষণযুক্ত একটি খাটো উদ্ভিদের কৃত্রিম পরাগসংযোগ ঘটান অর্থাৎ লম্বা উদ্ভিদের পরাগরেণু নিয়ে খাটো উদ্ভিদের গর্ভমুন্ডে স্থাপন করেন।

লম্বা ও খাটো উদ্ভিদের মাঝে সংকরায়নের পরেও সবগুলো উৎপন্ন বীজ থেকে শুধুমাত্র লম্বা উদ্ভিদ পাওয়া যায়। প্রথম সংকরায়নের ফলে পাওয়া এই উদ্ভিদগুলোকে মেন্ডেল প্রথম বংশধর বা F1 বলে নামকরণ করেন। এবারে তিনি F1 বংশধরের উদ্ভিদগুলোর নিজেদের মধ্যে পরাগসংযোগ করে সংকরায়ন ঘটান।

দ্বিতীয়বার সংকরায়নের ফলে সৃষ্ট দ্বিতীয় বংশধর F2 তে ৩:১ অনুপাতে লম্বা এবং খাটো উদ্ভিদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ F1 বংশধরের দৃশ্যমান লম্বা উদ্ভিদের মাঝে কোনোভাবে খাটো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট লুক্কায়িত ছিল, যেটি দ্বিতীবার সংকারয়নের সময় বের হয়ে এসেছে।

এটি যেহেতু শুধুমাত্র কান্ডের দৈর্ঘ্য, এই একটি বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ নিয়ে পরীক্ষা ছিল তাই এটিকে মনোহাইব্রিড ক্রস (monohybrid cross) বলা হয়ে থাকে (mono অর্থ একটি)।

মেন্ডেলের ২ম সূত্র আবিষ্কারের পটভূমি

১ম পরীক্ষার পরবর্তীতে মেন্ডেল বীজের বর্ণ (লক্ষণ হলুদ কিংবা সবুজ) এবং বীজের আকার (লক্ষণ গোলাকার কিংবা কুঞ্চিত) এই দুটি বৈশিষ্ট্যযুক্ত মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন, দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট নিয়ে পরীক্ষার কারণে এটিকে ডাইহাইব্রিড ক্রস (dihybrid cross, di অর্থ দুই) বলা হয়।

একটি শুদ্ধ লক্ষণযুক্ত হলুদ বর্ণ এবং গোলাকার বীজ উৎপন্নকারী উদ্ভিদের সাথে অপর একটি শুদ্ধ লক্ষণযুক্ত সবুজ বর্ণ এবং কুঞ্চিত বীজ উৎপন্নকারী উদ্ভিদের সংকরায়নে দেখা গেল F, বংশধরের সবগুলো উদ্ভিদই হলুদ বর্ণের গোলাকার বীজ উৎপন্ন করে। F, বংশধরের উদ্ভিদগুলোর নিজেদের মধ্যে সংকরায়ন করে F₂ বংশধরের মাঝে দেখা গেল, ১৬টি বংশধরের মধ্যে ৯টি হলুদ-গোল, ৩টি হলুদ-কুঞ্চিত, ৩টি সবুজ-গোল ও ১টি সবুজ-কুঞ্চিত বীজ উৎপন্নকারী উদ্ভিদ।

এটি যেহেতু ২টি বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ নিয়ে পরীক্ষা ছিল তাই এটিকে ডাইহাইব্রিড ক্রস (monohybrid cross) বলা হয়ে থাকে (mono অর্থ একটি)।

Leave a Comment